আমি যখন দেখা শুরু করেছিলাম দেখতে দেখতে রাত যে কখন দিনে পরিণত হতো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। একের পর এক এপিসোড দেখেই যাচ্ছি,পারিনা সিরিজটার মধ্যেই ঢুকে পড়ি।
একশন, রোমান্টিক ,ড্রামা ,প্রেম-ভালোবাসা কোন কিছুর কমতি নেই এই সিরিজ।
এমন এমন কিছু দৃশ্য আছে যা মাঝেমধ্যে কাঁদিয়ে দিত!
অসাধারণ অভিনয় এবং কাহিনী স্ক্রিপ্ট পরিচালক “মেহমেত বোজদাগ” তার সেরাটা দিয়েছে এই সিরিজে এবং অসাধারণ সাউন্ড মিউজিক যা আপনার মন কেড়ে নিবে।
নেই কোনো অশ্লীলতা পরিবারের সাথে সিরিজটি দেখতে পারবেন। অত্যন্ত ভাল সিরিজ টি নিয়ে বলার ভাষা নেই।
ইসলামের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত কোনো সিরিজ যদি কেউ দেখতে চান এই সিরিজটি প্রথম থেকে দেখতে পারেন। সিরিজটি কোনো ডকুমেন্টারি সিরিজ নয়, এটি ইতিহাস কে কেন্দ্র করে উপন্যাস আকারে এই সিরিজ এর কাহিনি সামনে এগিয়েছে।
সিরিজটিতে রোমাঞ্চ, যুদ্ধ, ভালোবাসা, রাজনীতি, ধর্ম এতো সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে দেখা শুরু হলে আপনার মনে হবে আপনি অন্য দুনিয়ায় আছেন। এই সিরিজটি বাংলা সহ অনেক গুলো ভাষায় ডাবিং করা আছে। অনেকেই বলে এখানে ইতিহাস কে বিকৃত করা হয়েছে। আসলে এই সিরিজটি সৌদি আরব তাদের দেশে প্রচারে নিষিদ্ধ করেছে কারন অটমান সম্রাজ্য এর সাথে সৌদি সম্রাজ্য এর সমস্যা অনেক আগে থেকেই। সুতরাং রাজনৈতিক কারনে এই সিরিজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সৌদি।
•••
সিরিজের প্রধান চরিত্র হচ্ছে সোলাইমান শাহের ছেলে আর্তুগ্রুল। বহু বছর আগে অনেক রকম বসতি ছিল। তাদের কোন দেশ ছিল না। ছিল ছোট ছোট বসতি, বসতি প্রধানরাই নেতৃত্ব দিত।
তেমনি এক বসতি হচ্ছে কায়ি বসতি। কায়ি বসতির প্রধান হচ্ছে সোলাইমান শাহ। আর্তুগ্রুল তারই ছেলে। একদম ছোট বসতি থেকে তার বসতির জন্য নিজেদের জমি ও রাষ্ট্র বানান আর্তুগ্রুল। কিন্তু এটা সহজ ছিল না।
আমরা সবাই জানি এখনকার বর্তমান বিশ্বে কি হচ্ছে। একটা মুসলিম দেশ অন্য মুসলিম দেশের সাথে যুদ্ধ করছে। নিজেদের ভিতর বিশ্বাসঘাতকতার জন্য সরকার প্রধান পরিবর্তন হচ্ছে। সাথে আমেরিকা-ইসরাইল তাদের স্বার্থের জন্য সবকিছু করছে যেন মুসলিমদেশ গুলোতে ঝামেলা লেগেই থাকে।
সিরিজটা দেখলে খুব ভাল ভাবে বুঝবেন কিভাবে তারা ঐক্য ভাঙতে কাজ করছে। কিভাবে মুসলিম দেশ গুলোর নিজেদের ভিতরে বিশ্বাসঘাতক তৈরী করছে।
“দিরিলিসঃ আরতুগ্রুল” সিরিজটি নির্মিত হয়েছে প্রায় ৬০০ বছর ধরে অর্ধ-পৃথিবী শাসনকারী অটোমান সাম্রাজ্যের (উসমানী খেলাফত) প্রতিষ্ঠাতা সুলতান ১ম উসমানের পিতা আরতুগ্রুল গাজীর জীবনী নিয়ে।
মঙ্গোলীয় সেনাদের আক্রমণ, নির্যাতন ও গণহত্যার কারণে তুর্কি গোত্রগুলো মধ্য এশিয়া ছেড়ে চলে যায়। কায়ি নামক একটি তুর্কি গোত্র আশ্রয় নেয় আনাতোলিয়ায়। এই গোত্রের প্রধান ছিলেন সুলেইমান শাহ। তার ছোট ছেলে আরতুগ্রুল প্রায়ই তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে শিকারে বের হোত।
হঠাৎ একদিন তারা টেম্পলার-নাইটদের একটি অসহায় পরিবারকে বন্দি করে নিয়ে যেতে দেখে। আরতুগ্রুল ও তার বন্ধুরা তখন সকল নাইটদের হত্যা করে হালিমা নামের এক মেয়ে ও তার পরিবারকে উদ্ধার করে। তারা সেই পরিবারের আসল পরিচয় না জেনেও নিজেদের বসতিতে নিয়ে আসে এবং আশ্রয় দেয়।
আসলে এই হালিমা ও তার পরিবার ছিল সেলজুক রাজপরিবারের সদস্য, যাদের মেরে ফেলার আদেশ দেয়া হয়েছিল। আরতুগ্রুল ও তার বন্ধুরা না বাঁচালে তাদের মেরে ফেলা হতো।
হালিমা ও তার পরিবারকে আশ্রয় দেয়ায় কায়ি গোত্রের শত্রু হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। একদিকে টেম্পলার-নাইটরা কায়ি গোত্রের উপর প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে, অন্যদিকে সেলজুক সাম্রাজ্যের আমির সাদেত্তিন কোপেক কায়ি গোত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। এমন সময়ে আবার শুরু হয় মঙ্গোলীয় সেনাদের আগ্রাসন।
আরতুগ্রুল কিভাবে এসব বিপদ মোকাবেলা করে এবং ভবিষ্যতের অটোমান সাম্রাজ্যের (উসমানী খেলাফত) ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে সেসব নিয়েই এগিয়ে চলে “দিরিলিস: আরতুগ্রুল” সিরিজের কাহিনী।
বিশ্বাস করুন আপনি এই ৫ সিজন দেখে শেষ না করে উঠতে পারবেন না।খেতে বসলেও মাথায় শুধু এটাই গুরবে। ঘুমুতে গেলেও মনে চাইবে আরো একটু দেখি।একবার দেখতে বসলে বুঝবেন, এমন কি আছে যা নেই এই সিরিজে। শক্তিশালী সংলাপ, যা শুনে মাঝে মাঝেই আপনি চমকে উঠবেন ।ফানি সিনে হাসতে হাসতে পেট ব্যথা হওয়ার দশা। রোমান্টিক সিন গুলো দেখলে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই। আর যুদ্ধদের ভয়াবহ আক্রমণ আপনাকেও দিশেহারা করে দিতে পারে।
প্রতিটি এপিসডে আছে আলাদা আলাদা টুইস্ট,যেটা দেখে মাঝে মাঝে চোখ ছানাবড়া হওয়ার অবস্থা। আর যে বিষয় টা সবথেকে বেশি মনে ধরেছে, তা হলো এ সিরিজ টা তে অনেক শিক্ষনীয় বিষয় আছে, যা আপনাকে মোটিভেশন দিবে। বিনোদনের পাশাপাশি একটু শিখতে পারলে ব্যপার মোটেও খারাপ হয় না।




