বিশেষ প্রতিবেদন

শান্তিগঞ্জের বেতকোনায় ‘আলোর দিশারী সমাজ কল্যাণ সংস্থা’র আত্মপ্রকাশ: শিক্ষা ও ঐক্যের নতুন বার্তা

আবদুর রহমান জামী
আবদুর রহমান জামী
প্রতিবেদক · মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ · ১:৩২ এএম

সামাজিক দূরদর্শিতা, মানবিক মূল্যবোধ আর গ্রামকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার দীপ্ত অঙ্গীকার নিয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডস্থ বেতকোনা গ্রামের দালান বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে নবগঠিত সামাজিক সংগঠন ‘আলোর দিশারী সমাজ কল্যাণ সংস্থা’।

এ উপলক্ষে ০৭ সেপ্টেম্বর (সোমবার) রাতে বেতকোনা গ্রামের সার্বিক উন্নয়ন ও গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের মেলবন্ধন দৃঢ় করার লক্ষ্যে এক প্রাণবন্ত সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রামের আপামর জনসাধারণের বিপুল ও উৎসবমুখর অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

গ্রামের মান্যবর ব্যক্তিত্ব মোঃ নুর আলী-র সভাপতিত্বে এবং শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক, মোঃ রুকন উদ্দিন-এর সাবলীল সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মূল উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা, গ্রীস প্রবাসী শামীম আহমেদ।

প্রবাসের ব্যস্ততার মাঝেও নিজ মাটির টানে প্রস্ফুটিত এই মানবিক উদ্যোগের পেছনের স্বপ্ন তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামীম আহমেদ বলেন, “গ্রামের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন আমরা শিক্ষা, চিকিৎসা ও পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের ডোরে একসূত্রে বাঁধা পড়ব। আলোর দিশারী সমাজ কল্যাণ সংস্থা কোনো একক ব্যক্তির নয়, এটি পুরো বেতকোনা গ্রামের আলোর মশাল। কুসংস্কার ও অনগ্রসরতা দূর করে একটি আদর্শ ও ঐক্যবদ্ধ গ্রাম গঠনে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।”

সভায় প্রবীণ ও নবীনদের সমন্বয়ে গ্রামের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া, দরিদ্রদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা এবং সার্বিক মানবকল্যাণে সংগঠনটি কীভাবে ভূমিকা রাখবে—তা নিয়ে বিস্তারিত উন্মুক্ত আলোচনা করা হয়।

বিশেষ অতিথি ও আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ—সুলতান মিয়া, লুৎফুর রহমান, সুলেমান আলী, ফয়জুল হক, হাবিবুর রহমান, কুটি মিয়া, আজির উদ্দিন, সেলিম আহমদ ও ফজরুল ইসলামসহ অনেকে।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে এই সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং সংগঠনের প্রতিটি সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে সব ধরনের সহযোগিতার পূর্ণ আশ্বাস প্রদান করেন। নৈশকালীন এই সভায় গ্রামের তরুণদের উপস্থিতি ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। সভা শেষে বেতকোনা গ্রামকে একটি আধুনিক, ঐক্যবদ্ধ ও দারিদ্র্যমুক্ত গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।।

সম্পর্কিত সংবাদ