সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে রুস্তম আলী (৩৭) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ৯টায় এই ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে ভাব বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা গ্রামের জিল্লুর রহমানের পক্ষ এবং মোল্লাবাড়ি গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে আস্তমা পয়েন্টে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সন্ধ্যার ঘটনার জেরে রাত নয়টার দিকে আস্তমা পয়েন্টের কাছে একটি মোবাইল ফোন টাওয়ারের সামনে রুস্তম আলীকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের ২০ থেকে ৩০ জন লোক অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের দাবি, একই গ্রামের মৃত কালাই মিয়ার ছেলে মতিন মিয়ার নির্দেশে ছইদুর রহমানের ছেলে জিল্লুর রহমান, মোস্তাক মিয়া, মৃত মনফর আলীর ছেলে নজিব আলী এবং নজিব আলীর ছেলে ছাইম আলীর নেতৃত্বে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে রুস্তম আলীকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।
খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থল থেকে রুস্তম আলীকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আস্তমা গ্রামের মৃত মনফর আলীর ছেলে নজিব আলী (৬৫) ও মৃত আশ্রব আলীর ছেলে জুয়েল মিয়া (৩৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে আস্তমা গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আস্তমা গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান আছে।




