মুহিব খান যখন “কওমি বাগানে আর ফুটবে না ফুল, পানি ঢেলে লাভ নেই পঁচে গেছে মূল” দার্শনিক কবিতাটির মাধ্যমে কওমি মাদরাসার ভেতরের অবস্থাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চেয়েছিলেন তখন অনেকেই তাকে ‘ছাঁই’ দিয়ে ধরে আচ্ছামত ‘ধুয়ে’ দিয়েছিলেন।
এখন আপনাদের কী অবস্থা? একটু জানতে চাই।
কওমি মাদরাসা আজ ধ্বংসের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। সময় যত গড়াচ্ছে ধ্বংসের পূর্বাভাস আরো প্রতিভাত হচ্ছে। একথা যারা মানবেন তারা নিরাপদে থাকবেন আর যারা এভয়ড করবেন তারা ধ্বংস এবং ধ্বংসই হবেন।
- মাদাসিরে কওমিয়ার মুরব্বিরা যত তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ঐতিহ্যবাহী এই ধারাটিকে হয়তো রক্ষা করতে পারবেন। তা না হলে (আল্লাহ না করুন) ধ্বংস অনিবার্য।
অনেকেই মনে করেন কওমি মাদরাসাগুলো কিয়ামত পর্যন্ত স্থায়ী থাকবে। এই মনে করা বা দাবী করার যৌক্তিকতা ও ঐতিহাসিক বাস্তবতা কতটুকু? কেন একটা প্রাতিষ্ঠানিক ধারা দীর্ঘস্থায়ী হবে আর কেন হবে না এটা নিয়ে আমরা মোটেই চিন্তা করি না। শুধুশুধু চিল্লাফাল্লা করি। আর নিজেরটাকেই ‘একমাত্র’ হক মনে করে আত্মতৃপ্তিতে ভুগি।
সোজাসাপটা কথা হলো, এই দাবীর পক্ষে যতই চিল্লাচিল্লি করা হোক না কেন, মাদারিসে কওমিয়াকে নতুনভাবে যদি ঢেলে সাজাতে না পারি তাহলে ধ্বংস অনিবার্য। আর যদি সময়ের সাথে সাথে শিক্ষা কারিকুলাম থেকে নিয়ে মাদরাসার সার্বিক ম্যানেজমেন্ট যুগোপযোগী করতে পারি তাহলে ঐতিহ্যবাহী এই ধারা স্বমহিমায় টিকে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
- কওমি মাদরাসা ধ্বংস হয়ে যাবে—এই কথা শুনেই কেউ আমার ওপর তেড়ে আসবেন না প্লিজ। আমার কথাগুলো বুঝুন।
ইসলামের শুরু থেকে জ্ঞান ও শিক্ষার আলোকবর্তিকা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সঞ্চারিত হয়েছে। ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় প্রধান জ্ঞানকেন্দ্রসমূহ ও সেগুলোর সক্রিয় সময়কালটা লক্ষ্য করুন।
ইসলামের সূচনালগ্নে মক্কা ও মদিনা (৬১০–৬৮০ খ্রিষ্টাব্দ) ছিলো প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র। তারপর প্রধান জ্ঞানকেন্দ্র কোথায় ছিলো? সময়ে সময়ে জ্ঞানের কেন্দ্রগুলো স্থানান্তরিত হয়েছে। ইতিহাস বলে— ইরাকের কুফা ও বসরা (৬৫৬–৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ)। সিরিয়ার দামেস্ক (৬৬১–৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ)। ইরাকের বাগদাদ (৭৬২–১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দ)। স্পেন/আন্দালুসিয়ার কর্ডোভা ও গ্রানাডা (৭৫৬–১৪৯২ খ্রিষ্টাব্দ)। মধ্য এশিয়ার নিশাপুর, সমরকন্দ ও বুখারা (৮০০–১৪০০ খ্রিষ্টাব্দ)। তুরস্কের ইস্তাম্বুল (১৪৫৩–১৯২৪ খ্রিষ্টাব্দ)।
এই যে জ্ঞানের কেন্দ্রগুলোর দৌড়াদৌড়ি, কেউ থামাতে পেরেছে? ৭০০/৮০০বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা পেয়েছে? পায়নি। উপরোল্লিখিত শহরগুলোর বাস্তবতা কী? আজ কোথাও কোথাও ছিটেফোঁটা জ্ঞানের সুবাস পাওয়া গেলেও নেতৃত্বে আছে? নেই।
তাহলে জ্ঞানের কেন্দ্রগুলো এখন কোথায়?
মিশরের কায়রো (৯৭০ খ্রিষ্টাব্দ–বর্তমান)।
মদিনার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬১ খ্রিষ্টাব্দ–বর্তমান)৷ ভারতের দেওবন্দ ও লখনউ (১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দ–বর্তমান)।
এই যে মিশর, মদিনা আর দেওবন্দ—এই তিনটি ধারারই রাজত্ব চলমান। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো দেওবন্দি চেতনা লালন করে। যদিও পাকিস্তানের মাদরাসাগুলো চেতনায় দেওবন্দি হলেও শিক্ষায় স্বকীয় ধারা অনুসরণ করে। বাংলাদেশেও প্রতিটি দেওবন্দি চেতনার মাদরাসার শিক্ষাধারা এক নয়।
- যাহোক, আমার কথার খোলাসা হলো—আল্লাহ না করুন, আমাদের খামখেয়ালির কারণে যদি ইসলামের এই শিক্ষাব্যবস্থাটা যদি ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে দায়িত্বশীলরা দায় এড়াতে পারবেন না।
কেন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে কওমি মাদরাসাগুলো?
কারণ, সবগুলো না হলেও কওমি মাদরাসার ভেতরগত বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম, দুর্নীতি, পাপাচার এগুলোর কারণেই ধ্বংস হতে পারে। অপরাধ তো সব মাদরাসায় হয় না। কিন্তু আল্লাহর গজব আসলে কেউ রেহাই পাবে না। সবাইকে একসঙ্গে ধরবে। আল্লাহ মাফ করুন।
এর বাস্তবতা নাই?
অবশ্যই আছে।
আসুন জানি—
হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ভাতিজা হযরত লুত আলাইহিস সালাম। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ‘সাদুম’ ও তার আশপাশের অঞ্চলের মানুষের হেদায়েতের জন্য নবি হিসেবে প্রেরণ করেন। এই এলাকার অধিবাসীরা ইতিহাসে প্রথম এমন এক পাপাচারের সূচনা করে, যা তাদের পূর্বে পৃথিবীতে আর কেউ করেনি—তারা নারীদের ত্যাগ করে পুরুষদের প্রতি অনৈতিক কামবাসনা মেটাত এবং প্রকাশ্যে পাপাচার করত।
আল্লাহ বলেন—
وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُم بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِّنَ الْعَالَمِينَ ﴿٨٠﴾ إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّن دُونِ النِّسَاءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ ﴿٨١﴾
“এবং আমি লূতকে পাঠিয়েছিলাম; সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘তোমরা কি এমন অনাচার করছ যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে কেউ করেনি? তোমরা তো কাম তৃপ্তির জন্য নারী ছেড়ে পুরুষের নিকট গমন কর; তোমরা তো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।”—(সূরা আল-আ’রাফ: ৮০-৮১)
কিন্তু লুত আলাইহিস সালাম তাদের বারবার সতর্ক করলেও কওমের লোকেরা তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করেনি। উপরন্তু স্বয়ং তাঁকেই শহর থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়।
কওমে লুতের পাপের মাত্রা সীমা অতিক্রম করলে আল্লাহ তাআলা তাদের শাস্তির সিদ্ধান্ত নেন। চূড়ান্ত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জিবরাইল, মিকাইল ও ইসরাফিল আলাইহিস সালাম সুদর্শন যুবকের বেশে লুতের বাড়িতে মেহমান হিসেবে আগমন করেন। লুতের স্ত্রী ছিলো কাফের। ছিলো সমকামী জাতির সহযোগীও। সে এই খবর গোপনে শহরের লোকদের জানিয়ে দিলো। আর তারা লুতের ঘর ঘেরাও করে ফেললো।
আল্লাহ বলেন—
قَالَ إِنَّ هَـٰؤُلَاءِ ضَيْفِي فَلَا تَفْضَحُونِ ﴿٦٨﴾ وَاتَّقُوا اللَّـهَ وَلَا تُخْزُونِ ﴿٦٩﴾
“লূত বলল, ‘এরা আমার মেহমান, সুতরাং তোমরা আমাকে অপমানিত করো না। এবং আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে হেয় করো না।”— (সূরা আল-হিজর: ৬৮-৬৯)
কিন্তু পাপিষ্ঠরা কোনো কথা না শুনে তাঁর ঘরে ঢোকার চেষ্টা করলো। লুত আলাইহিস সালাম চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
জিবরাইল নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন—
قَالُوا يَا لُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَن يَصِلُوا إِلَيْكَ ۖ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِّنَ اللَّيْلِ…
“হে লূত! আমরা তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত ফেরেশতা, ওরা কখনো তোমার নিকট পৌঁছাতে পারবে না। সুতরাং তুমি রাতের কিছু অংশ থাকতে তোমার পরিবারবর্গসহ বের হয়ে পড়…।— (সূরা হূদ: ৮১)
বলতে বলতে জিবরাইল তাঁর ডানা দিয়ে সামান্য আঘাত করেন। এতেই ঘরে ঢোকার চেষ্টা করা লোকদের চোখের দৃষ্টি নষ্ট হয়ে যায়।
ফেরেশতাদের নির্দেশ অনুযায়ী লুত রাতের শেষভাগে ঈমানদারদের নিয়ে শহর ত্যাগ করেন। এদিকে ভোর হতে না হতেই তাদের ওপর ভয়াবহ এক আসমানি আজাব নেমে আসে।
পবিত্র কুরআনের বর্ণনা—
فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِّن سِجِّيلٍ مَّنضُودٍ ﴿٨٢﴾ مُّسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ ۖ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ ﴿٨٣﴾
“অতঃপর যখন আমার আদেশ আসিল, তখন আমি জনপদটিকে উল্টাইয়া উপর-নীচ করিয়া দিলাম এবং উহার উপর ক্রমাগত বর্ষণ করিলাম পোড়ামাটির পাথর, যাহা তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহ্নিত ছিল। ইহা জালেমদের অপেক্ষা বেশী দূরে নয়।”— (সূরা হূদ: ৮২-৮৩)
ভোর হতেই তাদের ওপর তিন ধরনের ধারাবাহিক আজাব নেমে আসে—
নগরী উল্টে দেওয়া: হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম সম্পূর্ণ জনপদকে তার অধিবাসী ও ঘরবাড়িসহ ডানা দিয়ে শূন্যে তুলে ধরে উপুড় করে নিচে আছড়ে ফেলেন।
পাথর বর্ষণ: এরপর আকাশ থেকে অবিরত পোড়ামাটির কঙ্কর ও পাথর বর্ষণ করা হয়, যেখানে প্রত্যেক অপরাধীর জন্য আলাদা চিহ্ন দেওয়া পাথর নির্ধারিত ছিল।
বিকট শব্দ: একই সাথে এক প্রচণ্ড বিকট শব্দে সমগ্র এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়।
অবাধ্য ও অভিশপ্ত কওমে লুতকে যেখানে আসমানি আজাবের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছিল সেই স্থানটি বর্তমান জর্ডান, ফিলিস্তিন ও ইস’রায়েলের সীমান্তে অবস্থিত। জমিন উল্টে দেওয়ার ফলে সেখানে তৈরি হয় একটি ল্যান্ডলকড, অর্থাৎ ভূবেষ্টিত লবণাক্ত হ্রদ। যার নাম ‘Dead Sea’ বা ‘Sea of Death’। বাংলায় ‘মৃত সাগর’ বলা হয়।
ফেরেশতাদের আছড়ে দেওয়ার ফলে সেই জায়গাটি খুব গভীর হয়ে যায়। এত পরিমাণ গভীর যে, এটি ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে নিচু স্থান হিসেবে পরিচিত। এর পৃষ্ঠ ও তীর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৩০ মিটারেরও বেশি নিচে অবস্থিত।
এই হ্রদের পানি মারাত্মক লবণাক্ত। লবণাক্তের পরিমাণ সাধারণ সাগরের পানির তুলনায় প্রায় ৯.৬ গুণ বেশি। উচ্চ ঘনত্বের কারণে এই পানিতে মানুষের দেহ কোনো চেষ্টা ছাড়াই অনায়াসে ভেসে থাকে, কেউ ডুবে যায় না।
এমনকি সাধারণ কোনো মাছ, জলজ উদ্ভিদ বা অন্যান্য প্রাণীও এই মৃত সাগরে বেঁচে থাকতে পারে না। মিষ্টি পানির জর্ডান নদী থেকে যদি কোনো মাছ দুর্ঘটনাবশত সাঁতরে মৃত সাগরে এসে পড়ে, তবে অতি-লবণাক্ত পানির সংস্পর্শে আসা মাত্রই সেটি সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়।
চিন্তা করুন কী পরিণতি হয়েছিলো কওমে লুতের!
এই ঘটনাটি কল্পনার তুলিতে আঁকা কোনো গল্প নয়। কুরআন শরিফে বর্ণিত একটা চরম সত্য ঘটনা। আর আমরা জানি, কুরআন কোনো কেচ্ছা-কাহিনীর গ্রন্থ নয়। তবুও আল্লাহ তাআলা মাঝেমধ্যে এমন অনেক ঘটনা বলেছেন। বলার পরেই উম্মতে মুহাম্মদিকে সতর্ক করেছেন।
কওমে লুতের ঘটনাটি বলার পর আল্লাহ তাআলা সতর্ক করেন—
إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّلْمُتَوَسِّمِينَ
“নিশ্চয়ই এতে সূক্ষ্মদর্শী বা পর্যবেক্ষণশীলদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে।”— (সূরা আল-হিজর: ৭৫)
অর্থাৎ, চোখের সামনে যে ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষ বা ইতিহাস দাঁড়িয়ে আছে, তা কেবল একটি গল্প নয়; বরং চিন্তাশীল মানুষের জন্য এক বিরাট সতর্কবার্তা।
নবিয়ে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে মক্কার কাফের ও কুরাইশ ব্যবসায়ীরা যখন ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়া বা শামে যাতায়াত করত, তখন পথিমধ্যে লুতের ধ্বংসপ্রাপ্ত কওমের এলাকাটির পাশ দিয়েই তাদের যেতে হতো।
পরবর্তী ৭৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَإِنَّهَا لَبِسَبِيلٍ مُّقِيمٍ
“আর ঐ স্থানটি সাধারণ চলাচলের প্রধান রাস্তার পাশেই অবস্থিত।”
আয়াতের প্রেক্ষাপট হলো কুরাইশদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, তোমরা যে পথ দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করো, সেখানে পাপাচারের কারণে এক শক্তিশালী জাতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সেই ধ্বংসাবশেষ তোমাদের চোখের সামনেই বিদ্যমান। তোমরা যদি তোমাদের নবিকে অস্বীকার করো এবং অন্যায়ে লিপ্ত থাকো, তবে তোমাদের পরিণতিও এমন হতে পারে।
- পাপাচার, অনৈতিক আচরণ ও শিশুদের ওপর বলাৎকারের মতো যেকোনো জঘন্য কাজ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। আর সেই অপরাধ যদি হয় ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ মারকাযগুলোতে। তাহলে তো ধ্বংস অনিবার্য।
ইসলামে সমকামিতা ও বলাৎকারের মতো অপরাধকে অত্যন্ত জঘন্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার পুনরাবৃত্তি করে বলেন— “আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর অভিশাপ বর্ষণ করেন, যে লুত আলাইহিস সালামের কওমের মতো কাজ (সমকামিতা) করে”।—[মুসনাদে আহমাদ: ২৯১৫, সুনানে ইবনে মাজাহ]
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন— “তোমরা লুত আলাইহিস সালামের কওমের মতো কর্মে (সমকামিতায়) কাউকে লিপ্ত পেলে, যে করল এবং যার সাথে করা হলো—উভয়কেই হত্যা করো।” [সুনানে আবু দাউদ: ৪৪৬২, সুনানে তিরমিযী: ১৪৫৬]। হাদিসটিতে মূলত পারস্পরিক সম্মতিতে লিপ্ত ‘সমকামিতা’ (Sodomy/Homosexuality)-র শাস্তির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কোনো অবুঝ শিশু বা ব্যক্তি যদি ‘বলাৎকার’ (Rape/Coercive sexual assault)-এর শিকার হয়, তবে ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী জোরজবরদস্তির শিকার ব্যক্তি (পীড়িত বা ভিকটিম) সম্পূর্ণ নির্দোষ। এক্ষেত্রে ভিকটিম বা নির্যাতিত শিশুটির ওপর কোনো শাস্তি প্রযোজ্য নয়। কেবল অপরাধীই সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য।
তাই অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখুন। মাদরাসার হুজুর বলে আড়াল না করে শাস্তি নিশ্চিত করুন। শাস্তি নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। রাষ্ট্র যদি এই দায়িত্ব আদায়ে ব্যর্থ হয় তাহলে গোটা দেশে এর প্রভাব পড়বে এবং গোটা জনপদ আল্লাহর গজবের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।
কারণ, একদিকে আন্তর্জাতিক লিঙ্গসমতাবাদী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের কারণে সমকামিতা/এলজিবিটিকিউ আজ মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি আইনের মারপ্যাঁচে সমকামীদের অধিকার নিশ্চিত করারও অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে। অপরদিকে কওমি মাদরাসায় বলাৎকারের মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।
আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।
আল্লাহ আমাদের মাফ করুন। বোঝার তাওফিক দিন। কওমে লুতের মতো কওমি মাদরাসায় যেনো কোনো গজব নাজিল না হয়। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি একটা বাস্তবতা। আল্লাহর কাছে আমরা পানাহ চাই। আমাদের সবিনয় ক্ষমা করুন। আমাদের ইমানি গায়রত বাড়িয়ে দিন। আমিন।




