সারাদেশ

নবীগঞ্জে দিন মজুরের এক ফ্যান দুই বাতি, বিদ্যুৎ বিল ১ লাখ ৬৭ হাজার

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেদক · মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট ২০২৫ · ২:৪৯ পিএম

 

  • হবিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে নবীগঞ্জের এক দিনমজুর গ্রাহকের আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ বিল এসেছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫ টাকা। অথচ ওই গ্রাহক ব্যবহার করেন এক ফ্যান, দুই বাতি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন ওই দিনমজুর।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস বলছে, তাদের কম্পিউটার অপারেটরের ভুলে এমন কান্ড হয়েছে। বিল প্রস্তুতকারীকে তারা কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।

ইদানিং নবীগঞ্জের গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দেড়গুণ থেকে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় অনেকেই বিদ্যুৎ অফিসের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ বলছে, গত মাসে গরম থাকার কারণে এমন বিদ্যুৎ বিল এসেছে। আগামি মাসে সব ঠিক হয়ে যাবে।

নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের সদরঘাট গ্রামের কাজী ছাওধন মিয়া একজন দিন মজুর। তার ঘরে একটি ফ্যান ও দুটি বাতি রয়েছে। প্রতি মাসে তার বিদ্যুৎ বিল দুই থেকে তিনশ টাকার বেশি আসে না। চলতি আগস্ট মাসে তার বিল এসেছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৫ টাকা। বিলের বিলম্ব ফি ধরা ৭ হাজার ৫৯৫ টাকা। মোট ব্যবহার করা হয়েছে ১০ হাজার ৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ বিলে উল্লেখ করা হয়েছে জুন মাসের বিল ছিল ১০৫ টাকা।

  • কাজী ছাওধন মিয়া বলেন আমি একটি বাতি ও একটি ফ্যানের বেশি চালাই না। আমি এই বিল দেখে অবাক হয়ে যাই। আমাদের এলাকায় মানুষ ও মেম্বার চেয়ারম্যান এর সাথে কথা বলে দুই দিন অফিসে গেছি, তারা বলছেন এটা ঠিক করে দিবেন।’

বিল প্রস্তুতকারী ক্ষমা দাশ সূত্রধর বলেন, আমি ইচ্ছে করে এমন কাজ করিনি। কম্পিউটারের ভুলে এমনটা হয়েছে।

দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের কাজল মিয়া নামে এক গ্রাহক বলেন, আমার প্রতিবেশির মিটারে ১২২০ ইউনিট দেখা গেল। বিদ্যুৎ বিলে দেখা যায় ১৩০০ ইউনিট। এভাবে বেশি বেশি লিখে দেড়গুণ থেকে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে।

নবীগঞ্জের ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, প্রতি মাসে ৬শ’ থেকে ৮শ’ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে। অথচ চলতি আগস্ট মাসে ১ হাজার ৬শ’ টাকা বিদ্যুৎ বিল এসেছে।

দৌলতপুর গ্রামের বদরুল ইসলাম নামে আরেক গ্রাহক বলেন, বিদ্যুৎ বিল কম আসবে বলে বাসায় দু’টি মিটার লাগিয়েছি। এখন দেখা যায়, আগের চেয়ে আরো বেশি বিল আসে।

আব্দুল মতিন নামে এক গ্রাহক বলেন, বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে বিল বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন, আগামী মাস থেকে ঠিক হয়ে যাবে।

নবীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এর নবীগঞ্জ অফিসের ডিজিএম মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, গরমের সময় একটু বেশি বিল আসে। দিনমজুর কাজী ছাওধন মিয়ার বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর ভুলের কারণে হয়েছে। আমরা বিল প্রস্তুতকারী ক্ষমা দাশকে শোকজ করেছি। সে বলেছে ভুল হয়েছে, আর এরকম ভুল হবে না। কাজী ছাওধন মিয়ার বিল সংশোধন করে দেয়া হয়েছে। এবং এরকম বিল আসলে অভিযোগ পাওয়ার সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জানা গেছে, নবীগঞ্জে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছেন। ২৪টি চা বাগান, সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিল্প কারখানার মাঝেমধ্যে বেশি বিল আসে। গ্রাহকরা সামাজিক যোগাযোগে এই ‘বিল’ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ