সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার হাওর ও নীচু এলাকার বিস্তীর্ণ জমি জুড়ে সরিষা ক্ষেতের হলুদ ফুল চোখে পড়ার মতো দৃশ্য তৈরি করেছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং তুলনামূলক কম খরচে চাষাবাদের কারণে এবার সরিষার ফলন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মধ্যনগরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। ফলনও অন্যান্য বছরের চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু বাম্পার ফলনের এই খবরে যতটা না আনন্দ, তার চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতিবছরের মতো এবারও বাজারে ন্যায্য দাম না পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগী ও আড়তদারদের দৌরাত্ম্যে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সরিষার প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
একাধিক কৃষক জানান, উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম হলেও যদি বাজারে দাম না থাকে, তাহলে বাম্পার ফলনও তাদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। অনেক সময় কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে সরিষা কিনে নিয়ে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করা হয়, অথচ কৃষকেরা ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত থাকেন।
সরকারি পর্যায়ে সরিষা সংগ্রহ ও বাজার তদারকি জোরদার করা না হলে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাবেন না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাম্পার ফলনের সুফল কৃষকের ঘরে পৌঁছাবে না বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সরিষার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম ও বাজার নজরদারি অবিলম্বে জোরদার করতে হবে। অন্যথায় উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।
https://slotbet.online/