• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউজবোটে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শান্তিগঞ্জে জামিয়া ইসলামিয়া রিয়াজুল উলূম মাদরাসার শুভ উদ্বোধন আগামী শনিবার সাংবাদিক কাজী মমতাজের মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় ১০ম মৃত্যু বার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শান্তিগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণ তুচ্ছ ঘটনায় মাসুক মেম্বার ও হোসাইন বাহিনীর তাণ্ডব: দিনমজুর আহাদনুর খু*ন, দুই সন্তান নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী শান্তিগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তরুণীর অনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ শান্তিগঞ্জে রওজাতুল কুরআন মাদরাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও প্রবাসী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থান পরিবর্তন করে পাগলা বাজারে নতুন করে ভিশন শো রুমের উদ্বোধন শান্তিগঞ্জে শিক্ষা সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলায় পুরস্কার পেল আক্তাপাড়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ছাতকে দাখিল পরিক্ষার্থীদের সফলতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত শহীদ আবু সাঈদ হ*ত্যা*য় দুজনের মৃ*ত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

হারানো শিশু রহমানকে মায়ের কোলে ফেরালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা সানজিদ

জিএম রাশেদ : মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার ঢাকা / ১০৪ সময় :
প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে পথ হারানো এক আট বছরের শিশু রহমানকে তার পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিব হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সানজিদ ইসলাম সাহিব।

ঘটনাটি ঘটে গতকাল বিকেলে। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে ছোট্ট রহমানকে জ্বরে কাঁপতে কাঁপতে একা বসে থাকতে দেখেন সানজিদ। শিশুটির দুর্বল অবস্থায় উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি প্রথমেই তাকে পানি ও খাবার দেন এবং শরীরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। কিছুক্ষণ কথা বলার পর তিনি বুঝতে পারেন—শিশুটি পথ হারিয়েছে। রহমান নিজের নাম বলতে পারলেও পিতামাতার নাম বা সঠিক ঠিকানা কিছুই জানাতে পারছিল না।

রহমান জানায়, সে গত সাত দিন ধরে টিএসসি মেট্রো স্টেশনের নিচে অবস্থান করছিল এবং সেখান থেকে হেঁটে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে চলে আসে। ঠিকানা জানতে চাইলে সে শুধু “সূত্রাপুর” শব্দটি উচ্চারণ করতে পারে।

এরপর সানজিদ রহমানকে নিয়ে টিএসসি মেট্রো স্টেশনে ফিরে যান। সেখানকার কিছু দোকানদার জানান, হারিয়ে যাওয়ার পর শিশুটি কিছু ভবঘুরের কবলে পড়ে, যারা তাকে অসাধু কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে সানজিদ দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান।

তবে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, থানায় রহমানকে নিয়ে কোনো নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি, ফলে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। পরে সানজিদ নিজ উদ্যোগে সূত্রাপুর থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে রহমানের পরিবারের ঠিকানা সংগ্রহ করেন। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি রহমানকে তার বাবা-মায়ের হাতে নিরাপদে তুলে দেন।

ছেলেকে ফিরে পেয়ে রহমানের মা আবেগে ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, “রহমান আমার একমাত্র সন্তান। আমি তাকে মানুষ করতে চাই, কিন্তু সংসারের টানাপোড়েনে তা পারি না। সানজিদ ভাইয়ের মতো মানুষ থাকলে সমাজে আজও মানবতা বেঁচে আছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “তিনি নিশ্চয়ই একজন ভালো মায়ের সন্তান। তার জন্য আমি মন থেকে দোয়া করি।”

পরবর্তীতে জানা যায়, সেদিন বাড়ির পাশে খেলতে খেলতে রহমান পথ হারায়। এক ব্যক্তি তাকে রমনা পার্কে যাওয়ার প্রলোভন দিয়ে শাহবাগগামী বাসে তোলে। সেখান থেকেই সে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলে আসে।

সানজিদ বলেন, “ছাত্রদল সবসময় মানবিক কাজকে প্রাধান্য দেয়। এটা কোনো রাজনৈতিক কাজ নয়, এটা একজন মানুষের প্রতি আরেকজন মানুষের দায়িত্ববোধ। একজন মায়ের কোল খুঁজে দিতে পারাটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও দেখুন....
https://slotbet.online/