• শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউজবোটে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শান্তিগঞ্জে জামিয়া ইসলামিয়া রিয়াজুল উলূম মাদরাসার শুভ উদ্বোধন আগামী শনিবার সাংবাদিক কাজী মমতাজের মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় ১০ম মৃত্যু বার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শান্তিগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণ তুচ্ছ ঘটনায় মাসুক মেম্বার ও হোসাইন বাহিনীর তাণ্ডব: দিনমজুর আহাদনুর খু*ন, দুই সন্তান নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী শান্তিগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তরুণীর অনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ শান্তিগঞ্জে রওজাতুল কুরআন মাদরাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও প্রবাসী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থান পরিবর্তন করে পাগলা বাজারে নতুন করে ভিশন শো রুমের উদ্বোধন শান্তিগঞ্জে শিক্ষা সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলায় পুরস্কার পেল আক্তাপাড়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ছাতকে দাখিল পরিক্ষার্থীদের সফলতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত শহীদ আবু সাঈদ হ*ত্যা*য় দুজনের মৃ*ত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

হিজরি নববর্ষ ও হিজরতের ইতিহাস

রিপোর্টার নাম : / ২০৩ সময় :
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫

✒️শিব্বীর বিন রশীদ

একটা বছর অতিবাহিত হয়ে আগমন করল নতুন আরেকটি বছর,আসল নূতন দিন। মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র হিজরতের স্মৃতিকে হৃদয়পটে ধারণ করতে আমিরুল মুমিনীন হজরত উমর রাযি. সাহাবিদের পরামর্শে প্রবর্তন করেন হিজরি সন। শুরু হয় মুহাররম মাস থেকে এক নতুন সন।

যেমন মানুষ তার জীবনের স্মৃতিময় দিনগুলোকে স্মৃতি হিসেবে পালন করার জন্য বিভিন্নভাবে দিন, মাস ও সময় গণনা করে থাকে। ঠিক তেমন চন্দ্র ও সূর্য উভয়টির মাধ্যমে সন-তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়ে থাকে। হিজরি সাল প্রবর্তনের পূর্বে আরবরা তাদের বিভিন্ন স্মরণীয় ঘটনার উপর নির্ভর করে দিন গণনা করত। যেমন-রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর জন্মের প্রায় ৪০ দিন পূর্বে সংঘটিত আবরাহা কর্তৃক কাবা ঘর ধ্বংস করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা দিন গণনা করত। এই গণনার জন্য হিজরি সন অন্যতম ইসলামী পদ্ধতি।

হযরত উমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু-এর যুগে একটি নির্দিষ্ট তারিখ হিসেব করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সহ বহু সাহাবীদের পরামর্শে একটি নির্দিষ্ট সন গণনার পরামর্শ চলে। এতে কেউ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম থেকে সাল গণনা করার কথা বলেন, কেউ বা তাঁর ওপর ওহী আসার দিন থেকে, কেউ আবার তাঁর ওফাত থেকে সাল গণনা করার অভিমত ব্যক্ত করেন। কিন্তু হযরত উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূল সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের ঘটনা থেকে সাল গণনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন, এতে সকল সাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেন। কেননা, হিজরত সত্য ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য সৃষ্টিকারী।

হিজরি সনের সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর মৌলিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব প্রিয়নবী মুহাম্মদ ﷺ এর প্রিয় জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করে মদিনা শরিফে গমনের ঐতিহাসিক ঘটনা।

ইসলামী তারিখ বা চান্দ্রবর্ষের হিসাব রক্ষা করা মুসলমানদের জন্য ফরযে কেফায়া। একথা মনে করার কোনোই অবকাশ নেই যে,হিজরী সনটি আসলে আরবী বা কেবল আরবদের একটি সন; বরং এটি মুসলমানদের সন এবং ইসলামী সন। এক্ষেত্রে শুধু একটা চাঁদ দেখা কমিটি করে একটি মুসলিম রাষ্ট্রের দায়িত্ব পুরোপুরি পালিত হয় না। বরং সব মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্রের উচিত,তাদের স্বাতন্ত্র্য ও স্বকীয়তা বজায় রেখে ইসলামী বা হিজরী সনকে প্রাধান্য দেওয়া।

হিজরতের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

মক্কায় যখন কাফিরদের নির্যাতন-নিপীড়ন মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যায় এবং তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে তখন আল্লাহ তা’আলার নির্দেশ পেয়ে মহানবী ﷺ ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর মক্কা মুকাররামা থেকে মদিনার উদ্দেশে হিজরত করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ৮ রবিউল আওয়াল মদিনার পার্শ্ববর্তী কোবায় পৌঁছান তিনি। অতঃপর ২৭ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ১২ রবিউল আউওয়াল মদিনা মুনাওয়ারায় পৌঁছান মহানবী । প্রিয়নবী ﷺ এর হিজরতেরই স্মৃতিবহন করে আসছে হিজরি সন।

মদিনায় সর্বপ্রথম হিজরত করেছেন রাসুল ﷺ এর প্রিয় সাহাবি মুসআব ইবনে উমাইর রা.। আর মহানবী ﷺ হিজরত করেন সাহাবাদের হিজরতের দুই মাস পর। হিজরতের সময় রাসুলুল্লাহ ﷺ এর সঙ্গে ছিলেন আবু বকর রা.। এছাড়াও আবু বকর রা. এর গোলাম আমের ইবনে ফুহাইরা এবং পথনির্দেশক আবদুল্লাহ ইবনে আরিকাত দুয়াইলি ছিলেন। তিন দিন মক্কার ‘গারে ছাওর’ এ আত্মগোপন থাকার পর সোমবার প্রথম রবিউল আউয়াল আবার রওনা দেন। ১২ রবিউল আউয়ালে মদিনার তিনি নিকটবর্তী কুবা অঞ্চলে পৌঁছেন। সেখানে অবস্থান করে মসজিদে কুবা প্রতিষ্ঠা করেন।

এদিকে মদিনার লোকজন তার আগমনের অপেক্ষায় প্রহর গুণতে থাকে। প্রতিদিন তারা সকাল থেকে সূর্যের তাপ প্রখর হওয়া পর্যন্ত মদিনার বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করতেন। দূর দিগন্তে তাকিয়ে দেখতেন কোনো আগন্তুক আসছে কী না।
তারা উচ্ছাসে আবৃত্তি করতে থাকতেন নানা গীতিকবিতা। ১৪ দিন কুবায় থেকে মহানবী ﷺ একদিন ভরদুপুরে মদিনায় পৌঁছেন। মদিনার মানুষের মাঝে তখন আনন্দ-উচ্ছ্বাসের জোয়ার নেমে আসে। তারা প্রিয়নবী -কে বরণ করে নিতে বিভিন্ন রকমের কবিতা আবৃত্তি করে। হৃদয়োৎসারিত উষ্ণতা দিয়ে শ্রেষ্ঠ মানুষকে অভ্যর্থনা জানায়।
কিশোর-কিশোরীরা সুরে সুরে তাল মিলিয়ে গাইতে থাকে—

পূর্ণিমার চাঁদ আমাদের উপর এসেছেন
ওয়া’দা উপত্যকা থেকে/ এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য/ যতদিন আল্লাহকে ডাকার মত কেউ থাকবে/ ওহে আমাদের পথ প্রর্দশক! আজকে আমাদের মধ্যে
যিনি উপদেশ নিয়ে এসেছেন/ যার প্রতি আমাদের কর্ণপাত করতে হবে/ আপনি এই শহরের জন্য মর্যাদা বয়ে নিয়ে এসেছেন/ স্বাগতম আপনাকে, যিনি আমাদের সঠিক পথ দেখাবেন।

শিক্ষার্থী,জামেয়া দরগাহ সিলেট www.sibbirrosid@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও দেখুন....
https://slotbet.online/