Uncategorized

ক্যাম্পাসে আদর্শহীন ছাত্র রাজনীতির অবসান চাই

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেদক · সোমবার, ১১ মে ২০২৬ · ৪:১৮ পিএম

 

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানুষের জ্ঞান, নৈতিকতা ও নেতৃত্বের বিকাশের অন্যতম কেন্দ্র। একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলা প্রতিটি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিগত ১৭ বছর ধরে দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একক স্বৈরতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিল একটি ফ্যাসিবাদী ছাত্র সংগঠন। ফলে শিক্ষা ও সহাবস্থানের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর সাধারণ ছাত্রসমাজ আশা করেছিল, দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হবে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। কিন্তু বাস্তবতা এখনো আশাব্যঞ্জক নয়। বর্তমানে অনেক ক্যাম্পাসেই লাঠির মহড়া, উত্তেজনাপূর্ণ বিক্ষোভ এবং মারমুখী আচরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ নিরাপত্তাহীনতায় বাধ্য হয়ে হল ছেড়ে মেস বা বাসায় অবস্থান করছেন।

একইসঙ্গে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সংঘাতপূর্ণ ও উগ্র আচরণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে। এর প্রভাব পড়ছে আদর্শভিত্তিক ও ইতিবাচক ছাত্র সংগঠনগুলোর কার্যক্রমেও। ফলে গঠনমূলক ছাত্ররাজনীতির পথ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা, দখলদারিত্ব ও আদর্শহীন রাজনীতির কোনো স্থান নেই। প্রতিটি ক্যাম্পাস থেকে আদর্শহীন ছাত্র সংগঠনের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে এবং আদর্শিক ছাত্র সংগঠনগুলোর জন্য স্বাধীন ও ইতিবাচক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, বিশেষ করে প্রক্টরদের দায়িত্ব হবে, ক্যাম্পাসে সহাবস্থান, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখা। তারা যদি আদর্শিক ছাত্র সংগঠনগুলোর গঠনমূলক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন, তাহলে দেশ ভবিষ্যতে পাবে দেশপ্রেমিক, নৈতিক ও আদর্শবান তরুণ নেতৃত্ব; যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সম্পর্কিত সংবাদ