সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের বেতকোনা গ্রামের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় একাকার হয়ে যায় রাস্তাটি, আর শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে চলাচল হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। এতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, কৃষক, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
তারা জানান, কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা সময়মতো বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে পারে না। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও দেখা দেয় চরম সংকট। অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অন্য যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে না পারায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীকে কাঁধে বা বিকল্প উপায়ে মূল সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। বিভিন্ন সময় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তাদের গ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি। বারবার দাবি জানানো হলেও শুধু আশ্বাসই মিলেছে, কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে, রোগী পরিবহন সহজ হবে, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে সুবিধা হবে এবং এলাকার সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সরকারি উদ্যোগ না থাকায় নিজেদের অর্থায়নে কয়েক দফা সড়কে মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু প্রতি বর্ষায় সেই মাটি ধুয়ে গিয়ে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। ফলে প্রতিবছরই একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ রুকন উদ্দিন বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েকটি গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। বর্ষা এলেই রাস্তাটি কাদায় ডুবে যায়। দীর্ঘদিন ধরে পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফুর রহমান বলেন, প্রতি বছর আমরা চাঁদা তুলে রাস্তায় মাটি ফেলি। কিন্তু বর্ষাকালে সব ধুয়ে যায়। তখন হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যায়। অনেক সময় পড়ে গিয়ে বই-খাতা নষ্ট হয়।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সাজেদুল আলম বলেন, এই রাস্তা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। একটি দরখাস্ত দেওয়া আছে। আগামী অর্থ বছরে আমরা উপজেলা পরিষদ থেকে আমরা চেষ্টা করবো রাস্তাটি করে দেওয়ার।




