স্বপ্ন দেখার সাহস, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও সঠিক পরিকল্পনা একজন মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। সেই বাস্তবতারই উজ্জ্বল উদাহরণ সিলেট সদর উপজেলার খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ইসলামপুর পুড়া বাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা সুরমা ডেইরি ফার্ম।
২০১৭ সালে মাত্র দুটি গাভী নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই খামারটি আজ একটি সফল ও আধুনিক দুগ্ধ খামারে পরিণত হয়েছে। খামারের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন ময়না। দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম, সততা ও সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে খামারটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে ৩২টি গাভী রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২৫০ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়, যা স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খামারটিতে ৪ জন শ্রমিক নিয়মিত কর্মরত থাকায় স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
আনোয়ার হোসেন ময়নার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের বুরাইয়া গ্রামে। তিনি মো. মালিক উদ্দিনের সন্তান। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি সিলেট শহরে বসবাস করছেন। তিনি বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ছয় ভাই ও চার বোনের পরিবারের অধিকাংশ সদস্য প্রবাসে থাকলেও তিনি দেশের মাটিতেই থেকে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। প্রাণিসম্পদ খাতের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। একই সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলাকায় একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
নিজের সফলতার গল্প তুলে ধরে উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন ময়না বলেন, “শুরুটা ছিল খুবই ছোট। কিন্তু সততা, পরিশ্রম, ধৈর্য এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি। ভবিষ্যতে সুরমা ডেইরি ফার্মকে আরও আধুনিক ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে আরও বড় অবদান রাখতে চাই।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ইসলামপুর পুড়া বাড়ি এলাকার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা, ভালোবাসা ও মূল্যবান পরামর্শ আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে। তাদের উৎসাহই আমাকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে। ভবিষ্যতেও সবার সহযোগিতা নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই।”
স্থানীয়দের মতে, সুরমা ডেইরি ফার্ম শুধু একটি বাণিজ্যিক খামার নয়, বরং নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল। পরিকল্পিত উদ্যোগ, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে প্রাণিসম্পদ খাতে সফলতা অর্জন সম্ভব—আনোয়ার হোসেন ময়নার এই সফল যাত্রা তারই বাস্তব প্রমাণ।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, দেশের শিক্ষিত তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটে যদি পরিকল্পিতভাবে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ করেন, তবে নিজেদের আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। সুরমা ডেইরি ফার্ম সেই সম্ভাবনার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।




