বিশেষ প্রতিবেদন

চরম নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণের ঝুঁকিতে প্রবাস ফেরত মোঃ এহসানুল, ভিটেমাটি হারিয়ে গোপনে দেশত্যাগে বাধ্য

অক্ষর ডেস্ক:
অক্ষর ডেস্ক:
প্রতিবেদক · রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ · ৮:৫১ পিএম

 

চরম নিরাপত্তাহীনতা, প্রভাবশালী প্রতিবেশীদের অব্যাহত হুমকি এবং জীবননাশের আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে গোপনে দেশ ছেড়েছেন প্রবাস ফেরত মোঃ এহসানুল হক।
দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত ভিটেমাটি হারিয়ে এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে শূন্য হাতে নিজ মাতৃভূমি ত্যাগ করতে হলো এই লন্ডন প্রবাসীকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিন বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থান শেষে দেশে ফেরেন মোঃ এহসানুল হক। কিন্তু দেশে ফেরার পর থেকেই স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাঁর ওপর নজর পড়ে।

ওই প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় প্রতিবেশীদের রোষানলে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ওই সন্ত্রাসী চক্রটি তাঁর বাবা-মা ও তাঁর নিজের রক্ত পানি করা উপার্জনে কেনা জমি বেআইনিভাবে দখল করে নেয়।

জমি দখলের ধারাবাহিকতায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ওই দিন সকালে প্রভাবশালী চক্রের সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় মোহ এহসানুল হকের বসতবাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা রামদা, লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এহসানুল হকের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়।

সন্ত্রাসীদের আঘাতে তিনি গুরুতর জখম হন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে আশঙ্কাজনক ও রক্তে ভেসে যাওয়া অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান।

হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলেও সন্ত্রাসীদের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন এহসানুল হক। বাধ্য হয়ে তিনি নিজ বসতবাড়ি ছেড়ে শান্তিগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

আইনি প্রতিকার পাওয়ার আশায় এ ঘটনায় এহসানুল হক বাদী হয়ে শান্তিগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের জীবন রক্ষার্থে এবং দখলকৃত জমি উদ্ধারে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেন।

তবে সংবাদ সম্মেলনের পরও কোনো সুরক্ষাবলয় বা প্রশাসনিক সহায়তা না পাওয়ায় এবং প্রতিপক্ষের হুমকি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠায় চরম আতঙ্ক ও প্রাণভয়ে গত ৩ অক্টোবর তিনি গোপনে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।

একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার নিজ দেশে এসে এভাবে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়া, ভিটেমাটি হারানো এবং সুরক্ষার অভাবে দেশত্যাগে বাধ্য হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।।

সম্পর্কিত সংবাদ