◑◑জিএম রাশেদ◑◑ কচুয়া উপজেলা প্রতিনিধি
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় বইছে নির্বাচনী উত্তাপ। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন—আর তারই প্রেক্ষাপটে উত্তাল হয়ে উঠেছে কচুয়ার রাজনৈতিক অঙ্গন। প্রশ্ন একটাই—কে হবেন আগামীর কচুয়ার কর্ণধার?
বিএনপি থেকে কচুয়া আসনে দলীয় মনোনয়নের আশায় রয়েছেন একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, কচুয়া থেকে দুইবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ঈদের পর থেকেই মাঠে নেমে গেছেন তিনি। গণসংযোগ, কর্মীসভা ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। তার জনপ্রিয়তা এখনো কচুয়াতে আকাশচুম্বী, বলছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে বিএনপির আরেক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মালয়েশিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন মিয়াজি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনিও। এবার আবারো সক্রিয় ভূমিকায়, তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তার প্রচারণা অব্যাহত। সাবেক পৌর মেয়র হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে তার পক্ষে হচ্ছে ব্যাপক গণসংযোগ।
তবে কচুয়ার রাজনীতির চিত্রটা শুধু বিএনপিকেন্দ্রিক নয়। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও রয়েছে শক্তিশালী অবস্থান। দলটির একক মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন মুহাদ্দিস আবু নছর আশরাফী। তিনি বাংলাদেশ মজলিসে মুফাসসিরিনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং চাঁদপুর জেলা জামাতের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। সারা দেশে তাফসির মাহফিলে পরিচিত এই আলেম কচুয়ার মাঠেও প্রচার চালাচ্ছেন ব্যাপকভাবে। তার জনপ্রিয়তাও কম নয়।
এদিকে গণঅধিকার পরিষদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সহ-গণমাধ্যম সম্পাদক এনায়েত হাসিব। তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে তার টার্গেট, কচুয়ার বিভিন্ন এলাকায় দলে দলে উঠতি কর্মীদের সঙ্গে গণসংযোগ করছেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টি, এনসিপি থেকেও উঠে আসছেন নতুন নাম—ডঃ আরিফুল ইসলাম। কচুয়া উপজেলার প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে জনপ্রিয়তা গড়েছেন তিনি। রাজনৈতিক প্রচারণার পাশাপাশি মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রার্থী হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও রয়েছে মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তা। আলোচনায় রয়েছেন মোঃ ওমর ফারুক ইব্রাহিমী। তিনি উজানীর প্রখ্যাত আলেম পরিবারের সদস্য। তার নেতৃত্বে কচুয়ার বিভিন্ন এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন নিয়মিত।
কচুয়ায় এখন একটাই আলোচনার বিষয়—কে পাবেন জনতার সমর্থন? কে হবেন আগামীর সংসদ সদস্য? জাতীয় নির্বাচনের ঢাক বাজতেই দলীয় নেতারা যেমন সক্রিয়, তেমনি সাধারণ জনগণও অপেক্ষায়—যিনি হবেন তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি, উন্নয়নের কান্ডারি।
সময়ই বলে দেবে—কচুয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে আগামী অধ্যায় রচনা করবেন কে?
https://slotbet.online/