গত ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম বীর প্রতীক। ডাকসুর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন এজিএস মুহা. মহিউদ্দিন খান, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মোঃ মাজহারুল ইসলাম, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনীম জুমা, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বি, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, কমনরুম–রিডিং রুম–ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খান জসিম, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক সাখাওয়াত জাকারিয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার এবং কার্যনির্বাহী সদস্যবৃন্দ— মিফতাহুল মারুফ, রায়হান উদ্দিন, আনাস ইবনে মুনির, শাহিনুর রহমান ও রাইসুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান ডিভিশনের বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালকবৃন্দ এবং অতিরিক্ত সচিব মহোদয়।
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুর উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। ডাকসুর প্রতিনিধিবৃন্দ তাদের প্রস্তাবনায় নতুন গবেষণা ক্ষেত্র উন্মোচন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং ইতিহাস সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে ছিল— মন্ত্রণালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইন্টার্নশিপ ও বিভিন্ন প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি; ডাকসু ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা; মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি ও তা ব্যবহার করে সংঘটিত অপরাধ নিয়ে তথ্যভিত্তিক ডকুমেন্টারি নির্মাণ; ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্তকরণ ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল প্রক্রিয়া জোরদার; জাতীয় দিবসসমূহ যৌথভাবে উদযাপনের প্রস্তাব; বীরাঙ্গনাদের ইতিহাস সংরক্ষণ; জুলাই কন্যাদের নথিভুক্তিকরণ ও ইতিহাস রক্ষা; বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা কার্যক্রমে সহযোগিতা; এবং অঞ্চলভিত্তিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গল্প আর্কাইভ তৈরির উদ্যোগ।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাননীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই আজম বীর প্রতীক বলেন, দেশের ইতিহাস সংরক্ষণে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি ডাকসু ও মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের গবেষণা, ইন্টার্নশিপ ও মাঠপর্যায়ের কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে ইতিহাসচর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
সভাটি ভবিষ্যতের যৌথ কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তৈরির মাধ্যমে শেষ হয়।
https://slotbet.online/