দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জাতীয় নির্বাহী কমিটির এই সদস্যকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে বিএনপি স্থানীয় রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণে অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রাখল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অভিজ্ঞতাই কি প্রধান বিবেচ্য?
নাসির উদ্দিন চৌধুরীর রাজনৈতিক পটভূমি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
১৯৯৬ সালের জুনে তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর ২০০১, ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও এই তিনবারই তিনি পরাজিত হন, তবুও এই আসনে তাঁর নির্বাচনী অভিজ্ঞতার গভীরতা অনস্বীকার্য।
স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর পুরনো অবস্থান এবং বিভিন্ন সময় নির্বাচনের ময়দানে থাকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বিএনপি এবার একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের অভ্যন্তরে অনেকেই মনে করছেন, এই আসনে দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং পরীক্ষিত মুখ হিসেবে নাসির চৌধুরী দলের জন্য ‘নিরাপদ বাজি’।
অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং চ্যালেঞ্জ
তবে এই সিদ্ধান্তের পর দলের স্থানীয় পর্যায়ে কিছুটা অসন্তোষের খবরও পাওয়া গেছে। কিছু কর্মী ও নেতার অভিযোগ, যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাঁদের মতে, নাসির চৌধুরীর অতীত নির্বাচনী ফল এবং এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ।
এ প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন, “বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখায় আমার একাধিকবার মামলা হয়েছে, তারপরও আমি মাঠ ছাড়িনি। এই মনোনয়ন দিয়ে দল আমার মূল্যায়ন যথাযথ করেছে। এখন বিরোধ কিংবা জেদাজেদির সময় নয়। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমাদের একত্র হয়ে কাজ করতে হবে।”
নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে বিএনপি সম্ভবত এই বার্তাই দিতে চাইল যে, তারা অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত নেতাদের ওপর আস্থা রাখছে, যাঁদের এই আসনে নির্বাচনী লড়াইয়ের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আছে। দলটি আশা করছে, তাঁর অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতি এবার জয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হবে।
নির্বাচনী ময়দানে নাসির উদ্দিন চৌধুরী তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে কী ম্যাজিক দেখাতে পারেন এবং এই আসনে বিজয়ের “হিসাব” মেলাতে পারেন কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




