• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউজবোটে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সাংবাদিক কাজী মমতাজের মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় ১০ম মৃত্যু বার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শান্তিগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণ তুচ্ছ ঘটনায় মাসুক মেম্বার ও হোসাইন বাহিনীর তাণ্ডব: দিনমজুর আহাদনুর খু*ন, দুই সন্তান নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী শান্তিগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তরুণীর অনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ শান্তিগঞ্জে রওজাতুল কুরআন মাদরাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও প্রবাসী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থান পরিবর্তন করে পাগলা বাজারে নতুন করে ভিশন শো রুমের উদ্বোধন শান্তিগঞ্জে শিক্ষা সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলায় পুরস্কার পেল আক্তাপাড়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ছাতকে দাখিল পরিক্ষার্থীদের সফলতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত শহীদ আবু সাঈদ হ*ত্যা*য় দুজনের মৃ*ত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন শান্তিগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন: মামলাবাজির অভিযোগে হয়রানির শিকার পরিবার, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

অকাল বৃষ্টিতে নদ-নদীতে পানি: হাওরে ফসলহানির শঙ্কায় কৃষকের চোখে ঘুম নেই

হেলাল আহমেদ / ৪৪ সময় :
প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

 

​ফাল্গুন পেরিয়ে চৈত্র মাসের কেবল শুরু। প্রকৃতিতে যখন খরতাপ থাকার কথা, তখন গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অকাল বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে হাওরাঞ্চলে। অকালেই মরা নদীগুলো পানিতে ভরে ওঠায় বোরো ফসলের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক।
​সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাতে নদী ও শাখা খালগুলোতে পানির স্তর দ্রুত বাড়ছে। সাধারণত চৈত্র মাসের শেষের দিকে বা বৈশাখের শুরুতে নদ-নদীতে পানি বাড়তে দেখা গেলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। অসময়ে নদীর এই টইটুম্বর রূপ দেখে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকের কপালে।
​কৃষকদের মতে, হাওরের বোরো ধান এখন বাড়ন্ত পর্যায়ে। কিছু এলাকায় ধান থোড় আসার অপেক্ষায়। এই মুহূর্তে যদি নদীর পানি উপচে বা বাঁধ ভেঙে হাওরে প্রবেশ করে, তবে সোনালি স্বপ্নের সলিল সমাধি ঘটবে। বিশেষ করে দুর্বল ও অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ফসল রক্ষা বাঁধগুলো নিয়ে শঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, অনেক জায়গায় ডুবন্ত বাঁধ বা পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি)-র কাজ এখনো পুরোপুরি মজবুত হয়নি। নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে এখনই টেকসই ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢোকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, চৈত্র মাসের এই আকস্মিক ঢলই মূলত বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

দিরাই-শাল্লা ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরপাড়ের কৃষকরা জানান, “এখনো ধান পাকার অনেক সময় বাকি। মরা গাঙে এখনই জোয়ারের মতো পানি চলে আসছে। বাঁধ যদি ভেঙে যায়, তবে আমাদের সারা বছরের খোরাকি শেষ হয়ে যাবে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং পানি বৃদ্ধি পেলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। তবে কৃষকদের দাবি, কেবল আশ্বাস নয়, বরং এখনই যেন প্রতিটি বাঁধে দিনরাত নজরদারি ও সংস্কার কাজ জোরদার করা হয়।
​হাওরাঞ্চলের মানুষের একমাত্র নির্ভরতা এই বোরো ফসল। প্রকৃতির এই বৈরী আচরণ আর ঢলের আশঙ্কায় এখন কেবল সৃষ্টিকর্তার ওপরই ভরসা রাখছেন লাখো কৃষক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও দেখুন....
https://slotbet.online/