ফাল্গুন পেরিয়ে চৈত্র মাসের কেবল শুরু। প্রকৃতিতে যখন খরতাপ থাকার কথা, তখন গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অকাল বন্যার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে হাওরাঞ্চলে। অকালেই মরা নদীগুলো পানিতে ভরে ওঠায় বোরো ফসলের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাতে নদী ও শাখা খালগুলোতে পানির স্তর দ্রুত বাড়ছে। সাধারণত চৈত্র মাসের শেষের দিকে বা বৈশাখের শুরুতে নদ-নদীতে পানি বাড়তে দেখা গেলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। অসময়ে নদীর এই টইটুম্বর রূপ দেখে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কৃষকের কপালে।
কৃষকদের মতে, হাওরের বোরো ধান এখন বাড়ন্ত পর্যায়ে। কিছু এলাকায় ধান থোড় আসার অপেক্ষায়। এই মুহূর্তে যদি নদীর পানি উপচে বা বাঁধ ভেঙে হাওরে প্রবেশ করে, তবে সোনালি স্বপ্নের সলিল সমাধি ঘটবে। বিশেষ করে দুর্বল ও অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত ফসল রক্ষা বাঁধগুলো নিয়ে শঙ্কা সবচেয়ে বেশি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, অনেক জায়গায় ডুবন্ত বাঁধ বা পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি)-র কাজ এখনো পুরোপুরি মজবুত হয়নি। নদীর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে এখনই টেকসই ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢোকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, চৈত্র মাসের এই আকস্মিক ঢলই মূলত বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দিরাই-শাল্লা ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরপাড়ের কৃষকরা জানান, “এখনো ধান পাকার অনেক সময় বাকি। মরা গাঙে এখনই জোয়ারের মতো পানি চলে আসছে। বাঁধ যদি ভেঙে যায়, তবে আমাদের সারা বছরের খোরাকি শেষ হয়ে যাবে।”
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং পানি বৃদ্ধি পেলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। তবে কৃষকদের দাবি, কেবল আশ্বাস নয়, বরং এখনই যেন প্রতিটি বাঁধে দিনরাত নজরদারি ও সংস্কার কাজ জোরদার করা হয়।
হাওরাঞ্চলের মানুষের একমাত্র নির্ভরতা এই বোরো ফসল। প্রকৃতির এই বৈরী আচরণ আর ঢলের আশঙ্কায় এখন কেবল সৃষ্টিকর্তার ওপরই ভরসা রাখছেন লাখো কৃষক।
https://slotbet.online/