শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। রোববার রাতে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া বাজারে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সংঘর্ষ চলাকালে একটি রেস্তোরা ও একটি দোকানে ভাংচুর ও লুট করা হয় এবং আরো একটি মিনি মার্কেট ও তিনটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। সংর্ঘষস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী। ভোরে এই ৭ জনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া স্ট্যাটাস নিয়ে গাজীনগর গ্রামের মনির মিয়া ও আঙ্গুর মিয়ার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ্যরা বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির জন্য রাত নয়টায় উভয়পক্ষকে নিয়ে সালিস বৈঠকে বসেন। একই সময় মনির মিয়ার লোকজন আঙ্গুর মিয়ার মার্কেটে হামলা করে। এসময় দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাট শুরু হয়। একপর্যায়ে আঙ্গুর মিয়ার পক্ষের লোকজন এসে সংঘর্ষে যুক্ত হয়। দুইপক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়। পুলিশের উপস্থিতিতেও চলতে থাকে সংঘর্ষ। শেষে শান্তিগঞ্জ সেনা ক্যাম্প থেকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে আটক করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
আঙ্গুর মিয়া জানান, ফেসবুক স্ট্যাটাস কে বা কার উদ্দেশ্যে কোন আইডি থেকে দিয়েছে এটি জানি না। অপরিচিত আইডির স্ট্যাটাস বলেছেন অনেকে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে খবর পেয়ে আমি শিমুলবাঁকের তেহকিয়া ফুটবল খেলার মাঠ থেকে বাজারে আসি। ঘটনার বিস্তারিত জেনে নিষ্পত্তির জন্য বাজারে মনির মিয়ার মার্কেটে সালিশ বৈঠকে বসি। সালিশ বৈঠকে মনির মিয়ার পক্ষের কিছু ছেলে উস্কানিমূলক কথাবার্তা বলছে অন্যদিকে পরিকল্পিতভাবে আমাদের সালিস বৈঠকে রেখেই মনির মিয়ার লোকজন রাজ্জাকের নেতৃত্বে আমার মার্কেটে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এসময় আমার বারাকাত রেস্টুরেন্ট ও রেহান স্টোর ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের ক্যাশ থেকে ৩ লাখ টাকা লুট করা হয়। এছাড়া তিনটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করা হয়।
তিনি আরোও জানান, মনির মিয়ার পক্ষের লোকজনের এলোপাতাড়ি হামলায় আমাদের পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত আতাউর (২৯), জাবেদ (২০) ও ইউনুস (২৪) কে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মনির মিয়া বললেন, ফেসবুকে পাথারিয়া গ্রামের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়া হয়। পরে আঙ্গুর মিয়ার পক্ষের রেজু, নুরু মিয়া, রফিক, আছকির, রইছ আলী, আক্তার ও জাবেদ রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি আক্রমণ শুরু করে। তাদের রামদার আঘাতে আমাদের পক্ষের মোহাম্মদ আলী (৪৫), লিল মিয়া (৪০) ও মাহবুব আলী (১৮) গুরুতর আহত হয়। মোহাম্মদ আলীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্য দুজনকে দিরাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যাত্রীছাউনি ভাঙার বিষয়টি অসত্য বলে দাবি করেন তিনি।’
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওলিউল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পাথারিয়ার সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানে রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এসময় সেনাবাহিনী সাতজনকে আটক করে ভোর রাতে থানায় হস্তান্তর করেছে। এ ঘটনায় সোমবার বেলা দুইটা পর্যন্ত কেউ মামলা দায়ের করেনি।
https://slotbet.online/