লীড নিউজ

মধ্যনগরে টানা বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতায় বোরো ধানে পচনের আশঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেদক · বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ · ৭:০৩ এএম

 

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। এতে পাকার মুখে থাকা বোরো ধান নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কৃষকরা। আর মাত্র দুই সপ্তাহ পর ধান ঘরে তোলার কথা থাকলেও এখন সেই ফসল পানির নিচে পড়ে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে চিন্নি হাওর, কইয়ারকুরি, লুংগা-তুংগা, ইয়ারন বিল, রুপেশ্বর, গোড়াডুবা,টগা ও বানচাপড়া হাওর ঘুরে দেখা গেছে, দিগন্তজোড়া সবুজ ধানের ক্ষেত এখন পানির নিচে ডুবে আছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এসব হাওরের প্রায় অর্ধেক জমি ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় অসহায়ভাবে ফসল নষ্ট হতে দেখছেন তারা।
এদিকে টাঙ্গুয়ার হাওর অঞ্চলের ৮২টি গ্রামের কৃষকদের স্বপ্নও ম্লান হয়ে গেছে। অরক্ষিত নজরখালী বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নিচু জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এখনও যেসব জমিতে ধান টিকে আছে, সেগুলোও অতিরিক্ত বৃষ্টিতে যেকোনো সময় ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মধ্যনগর উপজেলায় ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৫০ হেক্টর জমি ইতোমধ্যে পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলনের আশা থাকলেও অকাল বৃষ্টিতে সেই সম্ভাবনা এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে চিন্নি হাওর, ইয়ারন বিল, কাইল্যানী, রুপেশ্বর,টগা, গোড়াডুবা ও বানচাপড়া হাওরসহ কয়েকটি এলাকায় কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে সেচ মেশিন বসিয়ে দিন-রাত পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় শঙ্কা কাটছে না।
বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের রংচী গ্রামের কৃষক আব্দুর নূর ও লাল মিয়া বলেন, “তলিয়ে যাওয়া ধান ইতোমধ্যে পচে গেছে। এই ধান আর কোনো কাজে লাগবে না।”মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন এর ৫ নং ওয়ার্ড এর কৃষক বারেক মিয়া বলেন আমাদের গোরাডুবার হাওরের প্রায় অর্ধেক জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যা আমাদের জীবন চলার পথে হুমকির সম্মুখীন হতে হবে।
মধ্যনগর বিশ্বেশ্বরী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমীন জানান, বোয়ালা হাওরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য এখনো পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ফলে স্থানীয় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “টানা বর্ষণে হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং নদীর পানিও বেড়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হচ্ছে না। কিছু স্থানে সেলু মেশিন বসিয়ে পানি সরানোর চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কৃষকদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সম্পর্কিত সংবাদ