সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মুহাম্মদ আবিদ হাসান (১০) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কুরআনে হাফিজ হওয়ার স্বপ্ন বুকে ধারণ করা ছোট্ট আবিদের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আক্তাপাড়া গ্রামের পরিবেশ।
শনিবার (৯ মে) সকাল ১০টার দিকে জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের আক্তাপাড়া বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আবিদ হাসান শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামের লন্ডন প্রবাসী ডাক্তার জামিল আল হাসানের ছেলে। সে একই ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের রওজাতুল কুরআন ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা হিফ্জ বিভাগের ছাত্র ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মাদরাসা থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসে কোরআনের এই ছোট্ট পাখি। শনিবার সকালে নিজ গ্রাম থেকে সাইকেল চালিয়ে আক্তাপাড়া মিনাবাজারে যায়। বাজার থেকে বের হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা ধানবোঝাই একটি ট্রলির সাথে তার সাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে সড়কে ছিটকে পড়ে ট্রলির নিচে পড়ে যায় আবির। এসময় গুরুতর আহত হয় সে।
পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে কৈতক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবিরকে মৃত ঘোষণা করেন। ছোট্ট আবিরের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সহপাঠীদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে।
মাদরাসার শিক্ষকরা জানান, আবিদ ছিল অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী ছাত্র। খুব অল্প বয়সেই কুরআন মুখস্থ করার প্রতি তার গভীর আগ্রহ ছিল। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় আক্তাপাড়া শাহী ঈদগাহে তার জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
আবিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে রওজাতুল কুরআন ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা পরিচালনা কমিটি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। পরিবারের অনুরোধ আবিরের ময়নাতদন্ত হয়নি।




