শিক্ষা

মধ্যনগরে শিক্ষার্থীদের পথচলা সহজ করতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দাবি সাত গ্রামের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রতিবেদক · রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ · ১০:০৬ এএম

 

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার কামাউড়া, করুয়াজান, ইনতনগর, কলমা, মাছুয়াকান্দা, শাহাপুর ও বনগাঁও এই সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রতিদিন মধ্যনগর সদরে যেতে হয়। প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে সাত গ্রামের সমন্বয়ে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে হাওর পাড়ি দিয়ে বর্ষা মৌসুম ঝড় বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ঝুঁকি নিয়ে মধ্যনগরে যেতে হয়। আবার হেমন্ত ও শুষ্ক মৌসুমে মোটরসাইকেল কিংবা পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না এবং শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা মৌজা আলী তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকার শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাবে কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। দ্রুত একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমবে এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল বাশার তালুকদার বলেন, “আমাদের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নৌকাযোগে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন ধরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অভাবে শিক্ষার্থীরা কষ্ট করছে। তাই অতি জরুরি ভিত্তিতে এ এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা প্রয়োজন।

উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোসাহিদ তালুকদার বলেন, “সাত গ্রামের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘব এবং শিক্ষার প্রসারের জন্য একটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত জরুরি। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে এবং ঝরে পড়ার হারও কমবে।”

মধ্যনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সঞ্জিব তালুকদার টিটু বলেন, সাত গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি এটি। শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কষ্ট আমি নিজেও দেখেছি। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে এলাকার শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে এবং অভিভাবকদের দুর্ভোগ কমবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, এলাকাবাসীর দাবি যৌক্তিক। শিক্ষা বিস্তারের স্বার্থে সরকার সবসময় আন্তরিক। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে।

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, “শিক্ষার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সাত গ্রামের মানুষের দাবির বিষয়টি আমি অবগত আছি। প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী সংখ্যা ও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ হলে এ এলাকায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”

সম্পর্কিত সংবাদ