রাজনীতি

ছাতকের সিংচাপইড় ইউনিয়নে নবীন-প্রবীণের প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস, নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের ভাবনা

উজ্জীবক সুজন তালুকদার
উজ্জীবক সুজন তালুকদার
প্রতিবেদক · মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ · ৮:৪১ পিএম

ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা-পর্যালোচনা। নবীন ও প্রবীণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে জমে উঠছে নির্বাচনী সমীকরণ।

চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার, গ্রামগঞ্জের অলিগলি—সবখানেই এখন নির্বাচনী আলাপই যেন প্রধান আলোচনার বিষয়।
ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার তারা পরিবর্তনের প্রত্যাশায় নতুন মুখ দেখতে আগ্রহী।

তবে শুধুমাত্র নতুন মুখ নয়, প্রার্থীর সততা, মেধা, জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং উন্নয়নমুখী চিন্তাভাবনাকেই তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও ইতোমধ্যে জনসংযোগে নেমেছেন।

বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও জনকল্যাণমূলক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন তারা। দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার কারণে ভোটারদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, এতে দলীয় বিভাজনের পরিবর্তে যোগ্য, সৎ ও জনপ্রিয় ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, অতীতে একাধিক ব্যক্তি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও ইউনিয়নের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কাজ এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে। বহু সড়ক এখনো কাঁচা, বিভিন্ন স্থানে সেতুর অভাবে মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

তাই এবার তারা এমন একজন চেয়ারম্যানকে নির্বাচিত করতে চান, যিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে যাদের নাম সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বেশি আলোচনায় রয়েছে, তারা হলেন— সৈদেরগাঁও গ্রামের সৈয়দ সাদিক আলীর পুত্র সৈয়দ মনসুর আলী। তিনি সুনামগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-অর্থ সম্পাদক, ছাতক উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, সিলেটস্থ ছাতক সমিতির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সিলেট তপোবন হাউজিং কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি তিনি একজন সমাজসেবক হিসেবেও পরিচিত। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে তাকে নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

সিংচাপইড় গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা, বিশিষ্ট সালিশ ব্যক্তিত্ব আলহাজ আরজক আলীর পুত্র প্রবাসী সারওয়ার হোসেইন সুজন। তিনি একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক, সিংচাপইড় ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (ইউকে)-এর প্রেসিডেন্ট, এনটিভি ইউরোপের সাংবাদিক এবং মুক্তবাংলা চ্যানেল ইউকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)। তার সমর্থকরাও বিভিন্নভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন, একজন শিক্ষাবিদ ওযুক্তরাজ্যের কমিউনিটি নেতা, সমাজকর্মী ও সাংবাদিক হিসেবে উনাকে নিয়ে দেশ-বিদেশে দলমত নির্বিশেষে সর্বমহলে উৎসাহ উদ্দীপনা ও আলাপ আলোচনা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

জিয়াপুর গ্রামের বিশিষ্ট মুরব্বি মো. নুরুল ইসলামের পুত্র মো. সায়েম আহমদ, তিনি সাবেক উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক,গোবিন্দগঞ্জ আব্দুল হক ডিগ্রী কলেজ এর সাবেক ইয়ার কমিটির সভাপতি সিলেটস্থ ছাতক সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক ,দক্ষিণ ছাতক উন্নয়ন পরিষদ সিলেট এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সিংচাপইড় ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্যও পরিচিত।

জিয়াপুর গ্রামের মরহুম হাজী বশির উদ্দিনের পুত্র অলিউর রহমান আলেক,তিনি ছাতক উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তরুণ প্রার্থী হিসেবে তার নামও ভোটারদের আলোচনায় রয়েছে।

খাসগাঁও গ্রামের মরহুম ইরশাদ আলীর পুত্র আব্দুল রউফ মিয়া। তিনি বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার অবদান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এছাড়া, আইনি কোনো বাধা না থাকলে জিয়াপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোজাহিদ আলী আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে। অতীতে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ইউনিয়নে তারও একটি পরিচিতি রয়েছে।

এছাড়াও গহরপুর গ্রামের বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান সামছুদ্দিনের পুত্র উপজেলা যুবলীগ নেতা ও সিংচাপইড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেলের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করছেন, তিনিও আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, প্রতিবেদক তার বক্তব্য গ্রহণ করতে পারেননি।

অন্যদিকে, সাধারণ ভোটারদের আলোচনায় সিংচাপইড় গ্রামের বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান মুর্শেদ চৌধুরীর নামও রয়েছে। তবে তিনি এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি।

এদিকে, ইউনিয়নের আরও কয়েকজন ব্যক্তি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে বিভিন্নভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই নতুন নতুন মুখ আলোচনায় আসতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সবাই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। স্থানীয় ভোটারদের আলোচনা, গণসংযোগ কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাদের নাম উঠে এসেছে।।

সম্পর্কিত সংবাদ