স্বাস্থ্য

গলাচিপায় অ্যান্টিভেনাম না পেয়ে সাপের কামড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ

তাইজুল ইসলাম:
তাইজুল ইসলাম:
পটুয়াখালী প্রতিনিধি · শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬ · ১০:৩০ পিএম

গলাচিপায় সাপের কামড়ে জাকির মৃধা (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, সাপের কামড়ের পর তাকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও অ্যান্টিভেনাম না দিয়ে পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে পটুয়াখালী নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকের দাবি, রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করেই অ্যান্টিভেনাম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। নিহত জাকির মৃধা গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের মৃধা বাড়ির মো. ফজলুল করিম মৃধার ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

অ্যান্টিভেনাম না দেওয়ার বিষয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জান্নাতুল নাঈম তানহা জানিয়েছেন, রোগী আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। তার ব্লাড প্রেসার ও হার্ট রেট অনেক বেশি ছিল। এ কারণে কার্ডিয়াক ইস্যুর কথা বিবেচনা করে সিনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে পরামর্শ করে অ্যান্টিভেনাম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, অ্যান্টিভেনাম দেওয়ার পর কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সুবিধা গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেই। বিশেষ করে আইসিইউ সাপোর্টের ব্যবস্থা নেই।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘সা‌পে কাটা রোগী‌দের চি‌কিৎসার জন্য আমাদের হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম ছিল। তবে জা‌কির হো‌সে‌নের শ্বাসকষ্ট, প্রেশার ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকায় তার শরী‌রে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়‌নি।’

তিনি বলেন, ‘কর্তব্যরত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, রোগীর প্রাথমিক লক্ষণ দেখে বিষধর সাপ কিনা, তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে রোগীর শ্বাসকষ্ট ও প্রেশার বেশি থাকায় অ্যান্টিভেনম না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সিনিয়র কনসালট্যান্টের সঙ্গে পরামর্শ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালীতে রেফার করা হয়েছে। শুধুমাত্র বিষাক্ত সা‌পে কাট‌লে সেই ক্ষে‌ত্রে রোগীর লক্ষণ বু‌ঝে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। নতুবা হি‌তে বিপরীত হ‌তে পা‌রে। জা‌কির হো‌সে‌নের শরী‌রে বিষধর সা‌পে কাটার কোনও লক্ষণ ছিল না। যে কার‌ণে চি‌কিৎসক তা‌কে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ ক‌রেন‌নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে ৪০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত আছে। চিকিৎসা নিয়ে রোগীর পরিবারের কোনও অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে।’

তবে এ বিষয়ে এনিমেল লাভার অব পটুয়াখালী সংগঠনের পরিচালক আবদুল কাইউম বলেন, ‘বিষধর সাপে কামড় দেওয়ার লক্ষণগুলো রোগীর মধ্যে ছিল। রোগীকে অন্যত্র না পাঠিয়ে হাসপাতালে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অ্যান্টিভেনম দেওয়া প্রয়োজন ছিল। অথচ রোগীর গুরুতর অবস্থা দেখে রেফার করা হয়েছে। সড়কে নড়াচড়া করায় বিষ রোগীর শরীরে ছড়িয়ে গেছে। বিষধর সাপে কাটার পরে গলা আটকে আসা বা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া অন্যতম লক্ষণ। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে রোগীর শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা বা শ্বাস বন্ধ হচ্ছে এমন উপক্রম হলে রোগীর মুখে মুখ দিয়ে কৃত্রিম শ্বাস দেওয়া উচিত ছিল। এসব সংকটের কারণে মৃত্যু হয়েছে।’

সম্পর্কিত সংবাদ