সুনামগঞ্জের ছাতকে পৈতৃক সম্পত্তি ও প্রবাসে উপার্জিত অর্থে কেনা জমি দখল, মোটা অংকের চাঁদা দাবি এবং সশস্ত্র হামলার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী লন্ডন প্রবাসী। হামলায় মারাত্মক জখম হয়ে বর্তমানে তিনি সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে ভুক্তভোগী লিখিত বক্তব্যে জানান, দীর্ঘ তিন বছর প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি জমি ক্রয় করেন। কিন্তু নিজ জন্মভূমিতে ফিরে তিনি ও তার পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
তাদের অভিযোগ, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘ দিন ধরে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি ও কষ্টার্জিত জমি জোরপূর্বক দখল করে ভোগ করে আসছে। একই সঙ্গে তাদের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছে ।
চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এর জের ধরে গত ২৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ছাতক উপজেলার জিয়াপুর গ্রামে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর আকস্মিকভাবে হামলা চালানো হয়। এতে তার নাকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেটের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জানান, ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলে পুলিশ সরেজমিনে তদন্ত করে গেছেন এবং ভুক্তভোগী কে পরামর্শ প্রধান করেছেন যে স্হানীয় লোকেরা বিএনপি ও এনসিপি রাজনৈতিক ভাবে এবং স্হানীয় ভাবে প্রভাবশালী এতএব একজন প্রবাসী হিসেবে আমি আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছি যে আপনি যেহেতু দেশের বাহিরে আছেন যত দ্রুত সম্ভব বাহিরে চলে যান আমার কাছে মনে হয় গ্রামের এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারে বা তোমাকে মেরে ফেলতে পারে । হামলার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা, ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন:
১. গত ২৮ সেপ্টেম্বরের হামলায় জড়িত আসামিদের দ্রুত শনাক্ত, গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া।
২. পৈতৃক ও ক্রয়কৃত জমির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার ও দখল নিশ্চিত করা।
৩. ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভয়েস রকর্ডের মাধ্যমে কেটে /মেরে ফেলার যে হুমকি তার পূর্ণ তদন্ত করা ।
৪. চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি ও ভবিষ্যৎ হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া।
৫. নিরাপত্তায় তিনি যেন আবারো লন্ডন যেতে পারেন, সে বিষয়ে স্হানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ হাইকমিশন সহযোগিতা আহবান ।
আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সঠিক তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




