১৯৫৩ সালে মা-বাবার ঘর আলোকিত করে পৃথিবীতে আসেন হাফিজ মাওলানা শায়খ সৈয়দ ফখরুল ইসলাম দা. বা.।
প্রাথমিক লেখাপড়া এবং হিফয সম্পন্ন করেন জামিয়া হোসাইনিয়া হাফিজিয়া আরাবিয়া দারুল হাদিস সৈয়দপুর।
অতঃপর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী উম্মুল মাদারিস ঢাকাউত্তর রাণাপিং মাদরাসায় ভর্তি হোন।সেখানে মুতাওয়াসসিতাহ স্তর থেকে তাকমিল ফিল হাদিস পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সাথে পাড়াশোনা করেন।
হযরতের উস্তাদগণ হলেন, উপমহাদেশের শ্রেষ্ট শায়খুল হাদিস আল্লামা শাহ্ আনোয়ার কাশ্মীরি রহ. এর শাগরেদ আল্লামা রিয়াসত আলী চৌঘরী রহ. আল্লামা তাহির আহমদ তৈফুরী রহ. সাবেক এমপি আল্লামা উবায়দুল হক রহ. আল্লামা আরমান আলী বাজান হুজুর রহ. প্রমুখ।
এরপর ১৯৮৩ সালে জামিয়া সৈয়দপুর’র উস্তাদ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
দীর্ঘ চল্লিশ বৎসর যাবৎ সৈয়দপুর জামিয়ায় দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন।
শায়খুল আরব ওয়াল আযম শায়খুল ইসলাম আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানী রহ.এর খলিফা মাদফুনে মক্কি শায়খ আব্দুল হক গাজিনগরী রহ. এর এজাযত লাভে ধন্য হয়েছেন।
জামিয়ার প্রশাসনিক দায়িত্বের মধ্যে প্রথমে শিক্ষাসচিব এরপর সহকারী জামিয়া প্রধান হিসেবে দায়িত্ব আদায় করেছেন।
তাছাড়া সুনামগঞ্জ নেযামুল মাদারিস বোর্ডের সহ-সভাপতি এবং আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তা’লিম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন।
সৈয়দপুর’র কেন্দ্রীয় মসজিদ দরগাহে হযরত সৈয়দ শাহ্ শামসুদ্দিন রহ.জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লির পদ প্রায় একযুগ ধরে অলংকৃত করে আছেন ।
২০১৬ সালে দীর্ঘ ত্রিশ বছরের সফল মুহ্তামিম হাফিয মাও.সৈয়দ মুতিউর রাহমান সাহেবের ইন্তেকালের পর শায়খ সৈয়দ ফখরুল ইসলাম হাফিযাহুল্লাহ জামিয়ার মহাপরিচালকের দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। দায়িত্ব নেয়ার অল্প দিনের মধ্যেই জামিয়ার শিক্ষা ব্যবস্হা সহ সামগ্রিকভাবে উন্নতি-অগ্রগতি সাধণে সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
এর মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:
১• জামিয়ার পশ্চিমাংশে জলাশয়ের উপর পাইলিং করে পাঁচতলা ভবনের তিনতলা নির্মাণ করতে সচেষ্ট হয়েছেন।
২• দীর্ঘ আটচল্লিশ বছরের লালিত স্বপ্ন
প্রত্যাশিত ” সৈয়দপুর জামিয়া ফুযালা পরিষদ ” গঠন করেছেন।
৩• নূরানি এবং হিফয বিভাগকে ঢেলে সাজিয়েছেন।
৪• জামিয়ার সকল ছাত্র একসাথে বসে খাওয়ার জন্য সুবিশাল খাওয়ার রুম তৈরী করেছেন।
৫• জামিয়ার পুকুর খনন করে পরিধি আরও বিস্তৃত করেছেন।
৬• উত্তর এবং দক্ষিণের ভবন গুলোর তিন তলার ছাদের টিন সরিয়ে পাকা ঢালাই করেছেন।
৭• স্হায়ীভাবে ময়লা নিষ্কাশনের জন্য ব্যয়বহুল ড্রেনের ব্যবস্হা করেছেন।
৮• ২০২০ সালে জামিয়ার শায়খুল হাদিস আল্লামা আব্দুল হাই বংশিপ্পার হুজুর রহ.এর ইন্তেকালের পর সিলেট বিভাগের বিশিষ্ঠ আলেম সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব শায়খুল হাদিস আল্লামা নযির হোসাইন প্রথমপাশি দা. বা.কে শায়খুল হাদিস পদে জামিয়ায় নিয়োগ দিয়েছেন।
জামিয়ার খেদমত আঞ্জাম দেওয়ার সাথে সাথে সামাজিক সংগঠন গুলোর সাথে ও নিজেকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক কাজে যতেষ্ট অবদান রাখছেন।
২০২২ সালে সৈয়দপুর উলামা পরিষদ গঠন করে সৈয়দপুর’র উলামায়ে কেরামকে নিয়ে ২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সৈয়দপুর’র রাস্তাঘাট সংস্কার করেছেন।
https://slotbet.online/