স্থানীয়দের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের সীমাহীন উদাসীনতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে পুরো ইউনিয়ন বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, কার্যত যা এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রাকে জিম্মি করে ফেলেছে।
অন্ধকারের করুণ চিত্র দিনের সিংহভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না জগদল ইউনিয়নে। রাত নামলেই পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় এখানকার জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
শিক্ষায় প্রভাব: শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতি: ছোট-বড় ব্যবসা, কলকারখানা এবং কৃষিকাজে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হচ্ছে।
স্বাস্থ্য সমস্যা: প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও বিদ্যুৎ সংকটে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, “আমাদের ইউনিয়নকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা হয়তো সর্বোচ্চ ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। বাকিটা সময় ঘন অন্ধকারে ডুবে থাকি। পল্লী বিদ্যুৎ যেন আমাদের জিম্মি করে রেখেছে।”
পল্লী বিদ্যুতের নিরুত্তর ভূমিকা একাধিকবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাননি স্থানীয়রা। কখনও ‘সিস্টেম লস’ আবার কখনও ‘জাতীয় গ্রিডে লোড কম’—এমন মনগড়া অজুহাত দিয়েই দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কোনো কোনো সময় লোডশেডিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো শিডিউলও দেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জগদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/সদস্য/স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শতভাগ বিদ্যুতায়িত এলাকায় যদি এমন লোডশেডিং হয়, তবে সরকারের এত বড় অর্জন অর্থহীন হয়ে যায়। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে আমরা বারবার অনুরোধ করেছি, কিন্তু কোনো সুরাহা হচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুতের সেবার মান শূন্যের কোঠায়।”
দ্রুত সমাধানের দাবি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে এলাকার মানুষ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন অনেকে।
ভুক্তভোগীরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেছেন, “আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাই, শতভাগ লোডশেডিং নয়। পল্লী বিদ্যুৎকে তাদের দায়িত্বশীলতা প্রমাণ করতে হবে এবং জনগণকে এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তি দিতে হবে।”
https://slotbet.online/