• বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউজবোটে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জগন্নাথপুরে নির্বাচনী বিরোধে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় বিএনপি নেতা সৈয়দ জহর গুরুতর আহত ক্যাম্পাসে আদর্শহীন ছাত্র রাজনীতির অবসান চাই দোয়ারাবাজারে ইরার বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে ইউএনও অরূপ রতন সিংহ ছাতকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে পলাতক  আসামী তাহিদুল গ্রেফতার মধ্যনগর পুলিশের বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত আসছে আনোয়ার পারভেজের নতুন বই ‘মধ্যবয়সী নারী’: এক অদম্য জীবনযুদ্ধের গল্প শান্তিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় থমকে গেল কুরআনে হাফিজ হওয়ার স্বপ্ন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন শাখার ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত সাইপ্রাস যুবদলের নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি ইমরান, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাত, সাংগঠনিক সম্পাদক রেদ্বওয়ান শাপলা ট্রাজেডির গুপ্ত ষড়যন্ত্রকারীদেরও বিচার করতে হবে : সাআদ বিন জাকির

দিরাইয়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক: পানির জন্য দিশেহারা নিম্নবিত্তরা

হেলাল আহমেদ / ১৩৮ সময় :
প্রকাশের সময় : বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। জলবায়ু পরিবর্তন আর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ সাধারণ নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে পানির জন্য হাহাকার এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এখন এক কলস বিশুদ্ধ পানি যেন সোনার হরিণ।
​মটর চলছে ১২ ঘণ্টা, মিলছে না এক টাংকি পানি
​সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েক দশক ধরে ব্যবহৃত সাধারণ (শ্যালো) নলকূপগুলো থেকে এখন আর পানি উঠছে না। আধুনিক মটর ব্যবহার করেও পানির সংকট মিটছে না। ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, ১০০০ লিটার ধারণক্ষমতার একটি পানির টাংকি পূর্ণ করতে মটর চালিয়ে রাখতে হচ্ছে একটানা ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে, অন্যদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় পানি মিলছে না।
​সাধ্যের বাইরে গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল)
​পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এখন ৭০০ থেকে ৯০০ ফুটের গভীর নলকূপ ছাড়া পানি পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কিন্তু একটি গভীর নলকূপ স্থাপনে বর্তমানে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা দিরাইয়ের সাধারণ কৃষক, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের সাধ্যের অতীত। স্বচ্ছল পরিবারগুলো নিজ উদ্যোগে গভীর নলকূপ বসালেও, বিশাল একটি জনগোষ্ঠী এখন অন্যের বাড়ির পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

​স্থানীয় তথ্যমতে, দিরাইয়ের মাটির নিচে পানির স্তর প্রতি বছর গড়ে কয়েক ইঞ্চি করে নিচে নামছে। সাধারণ নলকূপগুলো দিয়ে এখন কেবল বাতাস বের হচ্ছে। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির অভাবে গ্রামের মানুষ বাধ্য হয়ে পুকুর বা খালের দূষিত পানি ব্যবহার করছে, যার ফলে বাড়ছে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি।
​ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ।

​উপজেলার এক বাসিন্দা বলেন:
​”আগে চাপ দিলেই নলকূপ দিয়ে ঠান্ডা পানি আসত। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা মটর চালিয়েও বালতি ভরে না। আমাদের মতো গরিব মানুষের পক্ষে লাখ টাকা খরচ করে ডিপ টিউবওয়েল বসানো সম্ভব না। আমরা কি তৃষ্ণায় মারা যাব?”
​প্রশাসনের প্রতি দাবি ​এলাকার সচেতন মহল মনে করছেন, এই সংকট নিরসনে সরকারি উদ্যোগে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপন করা জরুরি। একই সাথে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ (Rainwater Harvesting) এবং জলাশয় সংস্কারের দিকে নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও দেখুন....
https://slotbet.online/