সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে এক অপ্রত্যাশিত চিত্র দেখা গেছে। ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর তুলনায় পাশের হারে অনেক বেশি এগিয়ে আছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। এই ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে কলেজের শিক্ষার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
মাদ্রাসা সাফল্যের শীর্ষে:
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দিরাইয়ে মোট ৯টি কলেজ ও একটি মাদ্রাসা থেকে এবার মোট ১৮০৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
হাজী মাহমদ মিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার সার্বিক পাশের হার ছিল ঈর্ষণীয় ৮৯.৩৬ শতাংশ, যা কলেজগুলোর সম্মিলিত পাশের হারের প্রায় দ্বিগুণ।
মাদ্রাসাটি থেকে মোট ৪৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ৪২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।
কলেজগুলোর দুর্বল চিত্র মাদ্রাসার সাফল্যের বিপরীতে কলেজ পর্যায়ের সামগ্রিক ফলাফল ছিল তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
৯টি কলেজ থেকে মোট ১৭৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৭৮৭ জন। পাশের হার মাত্র ৪৪.৬৯ ভাগ।
উপজেলায় মোট ১১ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যার বেশিরভাগই এসেছে কলেজ থেকে, কিন্তু সামগ্রিক পাশের হার হতাশাজনক।
দিরাই সরকারি কলেজ থেকে ৮৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৪৮৪ জন শিক্ষার্থী উর্ত্তীন হয়।পাশের হার ৫৫.৭৬ শতাংশ ,পাশাপাশি ৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
বিবিয়ানা মডেল কলেজ থেকে ৩৬৩ অংশগ্রহণ করে ১৮১ জন শিক্ষার্থী উর্ত্তীন হন।পাশের হার ৪৯.৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮ জন।জগদল কলেজ থেকে ৮৭ জন অংশগ্রহণ করে ১৪ জন শিক্ষার্থী উর্ত্তীন হয়েছে। পাশের হার ১৬.০৯ শতাংশ। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত মহিলা কলেজ থেকে ১৮০জন অংশগ্রহণ করে ১৯ জন শিক্ষার্থী উর্ত্তীন হয়েছে। পাশের হার ১০.৫৫ শতাংশ। ডা: সৈয়দ মনোয়ার আলী আটগ্রাম কলেজ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৮জন উর্ত্তীন হয়েছে। পাশের হার ২৬.৬৬ শতাংশ। রজনীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ থেকে ৪৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৩ জন শিক্ষার্থী উর্ত্তীন হয়েছে। পাশের হার ৬.৩৮। বাংলাদেশ ফেমেইল একাডেমি থেকে ৪৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ২০ জন শিক্ষার্থী উর্ত্তীন হয়েছে। পাশের হার ৪৪.৪৪ শতাংশ।
হাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ থেকে ১২২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৪৩ শিক্ষার্থী উর্ত্তীন হয়েছে। পাশের হার ৩৫.২৪ শতাংশ। চরনাচর উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ থেকে ১৯জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে ৩ জন শিক্ষার্থী উর্ত্তীন হয়েছে। পাশের হার ১৫.৭৮ শতাংশ।
আলোচনার কেন্দ্রে শিক্ষার মান:
এই ফলাফলের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কলেজের পড়াশোনার মান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে এর জন্য কলেজ পরিচালনা কমিটির অব্যবস্থাপনা, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের মনোযোগের অভাব এবং অতিরিক্ত ছাত্র রাজনীতির প্রভাবকে দায়ী করছেন। অনেক অভিভাবকও নিজেদের সন্তানদের প্রতি যথেষ্ট নজর না দেওয়ার জন্য সমালোচিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সনজীব সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “প্রত্যাশিত ফলাফলের চেয়ে রেজাল্ট খারাপ হয়েছে। আশা করি আগামীতে পাশের হার বাড়াতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকগণ ভালো ভূমিকা রাখবেন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে উদ্যোগী হবেন।”
দিরাইয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় মাদ্রাসার এই নজরকাড়া সাফল্য নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, তবে ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর এই নিম্নগামী ফল স্থানীয় শিক্ষার অবকাঠামো এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যাগুলিকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
https://slotbet.online/