সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার কাঁচির ভাঙ্গা হাওরের ভাই-বোনের খাল জলমহালের ভিতরে প্রায় ৩০ একর জায়গা জুড়ে অবৈধ বেরা দিয়ে মৎস্য আহরণ করছে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের একটি প্রভাবশালী চক্র। এ ঘ’ট’না’য় হরিনগর সোনালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক ও হরিনগর গ্রামের বাসিন্দা শফিক মিয়া শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অ’ভি’যো’গ দায়ের করেছেন।
অ’ভি’যো’গ সূত্রে জানা যায়, শান্তিগঞ্জ উপজেলাধীন দরগাপাশা ইউনিয়নের হরিনগর সাকিনের পূর্বে ভাই বোনের খাল জলমহালটি স্থানীয় উপজেলা প্রাশাসন থেকে ১৪৩১-১৪৩৩ বাংলা পর্যন্ত হরিনগর সোনালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর নামে বন্দোবস্ত নেয়া হয়। চলতি বছর জলমহালের আশপাশে বাঁশ কাটা দিয়ে সমিতির মৎস্যজীবি লোকজন মৎস্য আহরণ করার প্রস্তুতি নেন। গত ২/৩ দিন আগে ঘোড়াডুম্বুর সাকিনের প্রভাবশালী আবুল খায়ের, আবুল হাসনাত, মিলন মিয়া ও গৌছ আলী সহ একটি প্রভাবশালী চক্র ভাই বোনের খাল জলমহালের আশপাশে কাঁচির ভাঙ্গা হাওরের প্রায় ৩০ একর জায়গা জুড়ে নেট জাল দিয়ে বেরা দেয় এবং নেট জালের ভিতরে চায়না অবৈধ দুই দুয়ারী জাল দিয়ে মৎসা আহরণ করতে থাকে। এতে সমিতির লোকজন আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন বলে অ’ভি’যো’গে উল্লেখ করেন।
মঙ্গলবার(১৮ নভেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে কাঁচির ভাঙ্গা হাওরে দিয়ে দেখা যায় যে, কাঁচির ভাঙ্গা হাওরের ভাই বোনের খাল জলমহাল এলাকার ঘোড়াডুম্বুর অংশের পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত প্রায় ৩০ একর জায়গা জুড়ে নেট দিয়ে বের দেওয়া এবং এর ভিতরে চায়না অবৈধ দুই দুয়ারী নেট জাল দিয়ে ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের মিলন মিয়া সহ তার লোকজন মাছ ধরছে। কাঁচির ভাঙ্গা হাওরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির সীমানা ও জলমহালের কোন সীমানা না ভাসলেও প্রভাবশালীরা জোরপূর্বক ২/৩ দিন ধরে প্রতিদিন প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার মৎস্য আহরণ করছে বলে অ’ভি’যোগ করছেন জলমহালের লোকজন।
ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের মিলন মিয়া জানান, ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের ইউপি সদস্য আকিক মিয়া, নুর মিয়া সহ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছ থেকে ৪ লক্ষ টাকায় লিজ এনেছি। পঞ্চায়েত না বললে আমি বের উঠাবো না। বের দেয়া জমি আমাদের গ্রামের। তাই গ্রামের পঞ্চায়েত আমাকে লীজ দিয়েছেন।
হরিনগর সোনালী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক ও হরিনগর গ্রামের বাসিন্দা শফিক মিয়া বলেন, কাঁচির ভাঙ্গা হাওরের জমির আইল এখনো ভাসেনি। জলমহালের এলাকা এখনো পানির নীচে তলিয়ে আছে। ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের প্রভাবশালী কিছু মানুষ মিলনকে দিয়ে অবৈধ ভাবে মৎসা আহরণ করছে। হাওরের মাধ্যখানে বেরা দেয়ায় মাছ আমাদের জলমহালে ঢুকতে পারতেছে না। আমরা হতদরিদ্র মানুষ এবং মৎস্যজীবীগণ আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার(ওসি) আব্দুল আহাদ বলেন, লিখিত অ’ভি’যোগের ভিত্তিতে ঘ’ট’নাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। দুইপক্ষকে সন্ধ্যার পর থানায় আসতে বলা হয়েছে। অভিযুক্ত যে কেউ হউক। আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুকান্ত সাহা লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আইনানূগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগ খানা থানা বরাবরে প্রেরণ করেছি। আইনগত ভাবে থানা পুলিশ ব্যবস্থা নিবেন।
https://slotbet.online/