সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। উপজেলার প্রতিটি জনপদে এখন আম গাছের ডালে ডালে কেবলই সোনালি মুকুলের সমারোহ। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই রূপালি ঝিলিক আর মৌ মৌ গন্ধে আমোদিত চারপাশ। প্রকৃতির এমন হাস্যোজ্জ্বল রূপ দেখে যে কারও মন ভরে গেলেও, দিরাইয়ের আম চাষিদের মনে এখন কেবলই হাহাকার। দীর্ঘ খরা আর সময়মতো বৃষ্টির অভাবে তাদের লালিত রঙিন স্বপ্নগুলো এখন ধূসর হওয়ার পথে।
মুকুলে ভরা বাগান, শঙ্কিত কৃষক
উপজেলার বাগান মালিক ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর আবহাওয়া প্রথম দিকে অনুকূলে থাকায় আমের মুকুল এসেছে আশাতীত। কিন্তু বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। আকাশ মেঘলা হলেও নামছে না কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি। আর এই অনাবৃষ্টিই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে আমের মুকুলের জন্য।
স্থানীয় এক প্রান্তিক চাষি আক্ষেপ করে বলেন:
”গাছে তো মুকুল আইছে মাশাল্লাহ। কিন্তু কড়া রোদের কারণে মুকুলের বোঁটা শুকাইয়া যাইতেছে। যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এক পশলা বৃষ্টি না হয়, তবে হাত বাড়াইলেই মুকুল ঝইড়া পড়ব। আমরা এখন আল্লার রহমতের বৃষ্টির আশায় আসমানের দিকে চাইয়া আছি।”
ঝরে যাওয়ার ভয় ও পোকার আক্রমণ
বৃষ্টির অভাবে কেবল মুকুল শুকিয়ে যাওয়াই নয়, বরং অতিরিক্ত গরমে ‘হপার’ পোকার আক্রমণ ও ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। ধুলোবালি ও শুষ্ক আবহাওয়ায় মুকুলের স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত আমের ফলন ব্যাপক হারে কমিয়ে দিতে পারে।
কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ
এই সংকটকালে কৃষি বিভাগ চাষিদের ধৈর্য ধরার পাশাপাশি বিশেষ কিছু পরামর্শ প্রদান করেছে:
মুকুল বাঁচাতে হালকা কুয়াশা বা শিশির পড়ার সময় কৃত্রিমভাবে পানি স্প্রে করা।
অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক পরিমিত মাত্রায় প্রয়োগ করা।
গাছের গোড়ায় আর্দ্রতা ধরে রাখতে হালকা সেচ দেওয়া।
বৃষ্টির অপেক্ষায় দিরাই
দিরাইয়ের অর্থকরী ফসল হিসেবে আমের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। অনেক পরিবার এই আয়ের ওপর নির্ভর করে। ফলে প্রকৃতির বিরূপ আচরণে কেবল ফলন নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতিও। এখন চাতক পাখির মতো দিরাইয়ের হাজারও কৃষক প্রহর গুনছেন এক পশলা শান্তির বৃষ্টির জন্য।
https://slotbet.online/