• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউজবোটে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সাংবাদিক কাজী মমতাজের মাতার রুহের মাগফেরাত কামনায় ১০ম মৃত্যু বার্ষিকীতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শান্তিগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণ তুচ্ছ ঘটনায় মাসুক মেম্বার ও হোসাইন বাহিনীর তাণ্ডব: দিনমজুর আহাদনুর খু*ন, দুই সন্তান নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী শান্তিগঞ্জে শিক্ষকের বিরুদ্ধে তরুণীর অনৈতিক সম্পর্ক ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ শান্তিগঞ্জে রওজাতুল কুরআন মাদরাসায় অভিভাবক সমাবেশ ও প্রবাসী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্থান পরিবর্তন করে পাগলা বাজারে নতুন করে ভিশন শো রুমের উদ্বোধন শান্তিগঞ্জে শিক্ষা সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলায় পুরস্কার পেল আক্তাপাড়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ছাতকে দাখিল পরিক্ষার্থীদের সফলতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত শহীদ আবু সাঈদ হ*ত্যা*য় দুজনের মৃ*ত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন শান্তিগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন: মামলাবাজির অভিযোগে হয়রানির শিকার পরিবার, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

দিরাইয়ে পিআইও’র কমিশন বাণিজ্য: নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই লোপাট হচ্ছে সরকারি অর্থ

হেলাল আহমেদ / ৪৭ সময় :
প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মির্জা মোঃ আবু ছাইদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিশন না দিলে কোনো প্রকল্পেরই বিল পাস করেন না তিনি। ফলে নামমাত্র কাজ করে বা কাজ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

​দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দিরাই উপজেলায় টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ১ম ও ২য় কিস্তিতে বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে ১ম কিস্তিতে ১ কোটি ৪৯ লক্ষ ৯ হাজার ৩৬৬ টাকা এবং ৮৮.৮৬৩৮ মে.টন চাল ও সমপরিমাণ গম বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা দিয়ে মোট ৮৫টি প্রকল্প (৬১টি কাবিটা ও ২৪টি কাবিখা) বাস্তবায়ন করা হয়েছে। দ্বিতীয় কিস্তিতে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৭৪ টাকা বরাদ্দে ৬০টি টিআর প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
​সরেজমিনে দৃশ্যমান কাজের পেছনের অদৃশ্য বাণিজ্য
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কাজের গুণগত মানের চেয়ে কমিশন বাণিজ্যই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী রাস্তাঘাটের সিসি ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও পুরুত্বের সুনির্দিষ্ট মাপ থাকলেও তা মানা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার প্রস্থ ৮ ফুট এবং ঢালাইয়ের পুরুত্ব ৫ ইঞ্চি হওয়ার কথা। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাত্র ১৫-২০টি প্রকল্প ছাড়া বাকি প্রকল্পগুলোতে ঢালাইয়ের পুরুত্ব ও প্রস্থ নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই করা হয়েছে।
​১২ থেকে ১৬ শতাংশ কমিশন দাবি
প্রকল্প সভাপতিদের অভিযোগ, প্রকল্প পাস থেকে শুরু করে বিল ছাড় করার প্রতিটি ধাপে পিআইও মির্জা মোঃ আবু ছাইদকে ১২ থেকে ১৬ শতাংশ টাকা কমিশন দিতে হয়। এছাড়াও মাস্টাররোল বাবদ ১ থেকে ২ হাজার টাকা এবং স্ট্যাম্প বাবদ ১ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। কমিশনের এই দাপটে কাজের মান ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
​রাজানগর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি ডলি রানী প্রকাশ্যেই অভিযোগ করে বলেন, “পিআইও অফিসে এখন ঘুষ বাণিজ্য প্রকাশ্য। প্রকল্প থেকে আমি পিআইওকে ১২ শতাংশ টাকা দিয়েছি।”
​ভয়ে মুখ খুলছেন না জনপ্রতিনিধিরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি জানান, পিআইও মির্জা মোঃ আবু ছাইদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ার সাহস কারো নেই। পিআইও অফিসে এখন ঘুষ বাণিজ্য ওপেন সিক্রেট। উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও বিষয়গুলো অবগত থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেন না। ফলে অভিযোগ করলে জনপ্রতিনিধিদেরই উল্টো বিপাকে পড়তে হয়।
​কর্মকর্তাদের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দিরাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মির্জা মোঃ আবু ছাইদ বলেন, “যে বা যারা এসব কথা বলছে তাদের আমার অফিসে নিয়ে আসেন।”
​দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজিব সরকার বলেন, “প্রকল্প সভাপতিদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলুন। আমি সরেজমিনে গিয়ে প্রকল্পের কাজ দেখব।”
​সুনামগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, “আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। কোনো কাজে সমস্যা থাকলে আমাকে সরাসরি জানান, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরোও দেখুন....
https://slotbet.online/