পাঠাগার প্রতিষ্টার জন্য একটা সাহিত্য সংঘটন আমাকে পুরস্কার দিতে চাইছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে পাঠে উৎসাহিত করা।
এই টাকা গ্রহন করতে তাদের সাথে যোগাযোগের পর, জন্ম সনদ থেকে শুরু করে মৃত্যু সনদ সব চাইলো।
মা-বাবার বায়োডাটা এবং আমার এলাকার আরো
দুইজন সরকারী কর্মচারীর তথ্য।
ফোনে এগুলো শুনবার পর লাইন কেটে দিলাম।
পুরস্কার গ্রহনের ইচ্ছা আমার রইলনা।
হিসাব করে দেখলাম-৩০০০ টাকা জন্য আমাকে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে,অন্তত কয়েকশত কিলোমিটার।
এবং ৫/৬ হাজার টাকা খরচ করতে হবে।
তাদের কথা-বার্তা আমার লাভজনক মনে হয়নি। আমি সেই পুরস্কার আর তুলিনি, পাঠে উৎসাহবোধ করিনি।
আমার এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধির স্বাক্ষরিত নাগরিক সনদ লাগবে। আমি ছোটবেলা থেকে জমিয়ত কর্মী। তখন আমারা এলাকার চেয়ারম্যান হলো আওয়ামীলীগের মহান নেতা।
সে কেন আমাকে নাগরিক সনদ দিবে তা বুঝতে পারলাম না!
যদি চারিত্র সনদের আবেদন করি তারা তো এমনিতেই লিখে দিবে ‘আমার জানামতে উনি কোন রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত নন এবং তিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারি; – তবেই কেবল কর্তৃপক্ষ আমাকে পুরস্কার দিবে।
অথচ আমি আওয়ামী সরকারের বিরুধীতা করে ফেইসবুকে লিখে হাজতে যেতে হয়ছে।
আমি তো এটাও জানি যে আমার চরিত্রের সার্টিফিকেটে সাক্ষর করবে, সে সরকারের বহু টাকা আত্মসাৎ করে রাখা কোন দূর্নীতিবাজ।
••
বিষটি আমার এক সিনিয়র ভাইয়ের সাথে চা-য়ের টেবিলে আলোচনা করলাম, তিনি পরামর্শ দিলেন; তুমি সাহিত্য সংঘটনের কর্তৃপক্ষের যোগাযোগের নাম্বার দাও, আমি নাম্বার দেয়ার পরে ফোন করে তিনি পরিচয় দিলেন (মিথ্যা পরিচয়) এবং বললেন; ‘জামী’ পুরস্কারের অর্থ হাতে পেয়ে আপনাকে একহাজার টাকা দিবে, কোন ধরনের কাগজপাতি ছাড়াই আপনি ব্যবস্থা করেন। বেচারা রাজি হয়ে গেল……….
••
তিনি কথা শেষ করার পরে আমি বললাম; আসমান থেকে স্বয়ং জিব্রাইলে আমিন নাইমা আসলেও বাংলাদেশকে ঠিক করা সম্ভব না।
—-
~আবদুর রহমান জামী
সম্পাদক:অক্ষর
https://slotbet.online/