স্বাধীনতার দীর্ঘ ৫৫ বছর পর সংরক্ষিত নারী আসনে (পাবনা-সিরাজগঞ্জ) প্রথম বিএনপির মনোনয়ন পেলেন পাবনার চাটমোহরের মেয়ে অ্যাড. আরিফা সুলতানা রুমা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বিএনপি। সোমবার প্রকাশিত এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন চাটমোহর উপজেলা সদরের আফ্রাতপাড়া মহল্লার প্রয়াত বিএনপি নেতা হাজী আক্কাস আলী মাষ্টারের বড় মেয়ে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা। যিনি বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রায় ৯০০ মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপির পার্লামেন্টারি মনোনয়ন বোর্ড। দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত তালিকায় তুলনামূলক তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে রুমাকে অন্তর্ভুক্তি দলীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাবনা-সিরাজগঞ্জ থেকে মোট ১১ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন।
আরিফা সুলতানা রুমার রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্র রাজনীতি থেকে। বিএনপি’র ভ্যানগার্ডখ্যাত সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ইডেন কলেজ শাখার দুই বার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন রুমা। ইডেন কলেজে ছাত্রদলের সংগঠন সক্রিয় করতে তিনি বলিষ্ঠ দায়িত্ব পালন করেন। আর নিজ রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং যোগ্যতায় ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এরপর সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দুই দফা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য নির্বাচিত হন।
১/১১ থেকে শুধু ঢাকায় নয় সারাদেশে বিএনপির দলীয় কার্যক্রম বেগবান করতে বিরতিহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে (চাটমোহর, ভাঙ্গুরা, ফরিদপুর) বিএনপি দলীয় প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে নারী ভোটারদের মধ্যে গণজাগরণ সৃষ্টি করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
আরিফা সুলতানা রুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নেন, পরবর্তীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেও আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেন। এছাড়া দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার কারণে ২০১৮ সালে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার তাকে একাধিক মামলার আসামি করে, ডিবি কার্যালয়ে টানা ৮ দিন রিমান্ড খাটতে হয়, করতে হয় কারাবাস।
রুমা স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে এলএলবি পাশ করে আইন পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আস্থার ভিত্তিতেই তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলীয় নেতারা।
চূড়ান্ত তালিকায় অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমার পাশাপাশি সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, নিপুণ রায় চৌধুরী ও হেলেন জেরিন খানের মতো অভিজ্ঞ নেত্রীরাও রয়েছেন। ফলে অভিজ্ঞ ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে এবারের তালিকা সাজানো হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
আরিফা সুলতানা রুমার মনোনয়ন ঘোষণার পর পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। পাবনা ও তার নিজ উপজেলার চাটমোহরের বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকেরা মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ-উৎসব করেন।
স্থানীয় নেতাদের আশা, জাতীয় সংসদে সুযোগ পেলে অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো জোরালো ভাবে তুলে ধরতে পারবেন।
মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় আরিফা সুলতানা রুমা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘এই অর্জন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বুকে নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে সম্পৃক্ত সকল দলীয় নেতাকর্মীর। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি অর্পিত এই মহান দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করে ভবিষ্যতেও দেশ ও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবো ইনশাআল্লাহ।’
https://slotbet.online/