জনগণ আজ নতুন সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশায় আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের মানুষ এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ চায়, যেখানে দায়িত্বশীলতা, সৌহার্দ্য ও জনকল্যাণই হবে রাজনীতির মূল ভিত্তি।
জমিয়ত দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন। আমরা ইচ্ছা করলে জনগণের এই প্রত্যাশার জবাব এখনই দেওয়া সম্ভব। দেশের প্রতিটি সংকটময় সময়ে দলটির নিবেদিতপ্রাণ নেতাকর্মীরা ধর্ম, মানবতা ও রাষ্ট্রের কল্যাণকে সামনে রেখে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে আসছেন।
বিগত ২০২৬ সালের নির্বাচন এবং বর্তমান সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায়ও জমিয়তের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। যদিও সেই অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনো দৃশ্যমান হয়নি। তবে স্বীকৃতি আসুক বা না-ই আসুক, নিজের দায়িত্ব ও অধিকার নিজেকেই পালন করতে হয়—এটাই বাস্তবতা।
সরকারি দল ও ১১ দলের বাইরেও দেশে বহু রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে। সময়ের দাবি হলো, জনস্বার্থে তাদের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্মে একত্রিত করা।
যদি এই রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে নিয়ে একটি নতুন জোট গঠন করা যায়, তবে তা হতে পারে জনগণের প্রত্যাশার একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী রাজনৈতিক উত্তর।
এই জোটের লক্ষ্য হবে—সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সমর্থন দেওয়া, আর জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা করা। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা পাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নতুন কোনো স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগও কমে আসবে।
বাংলাদেশের রাজনীতির পরিচ্ছন্ন ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব চাইলে এমন একটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে জমিয়তের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি এবং ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মাওলানা মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
বিনীত অনুরোধ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অহেতুক আক্রমণ বা বিদ্বেষমূলক সমালোচনায় সময় নষ্ট না করে জনগণের কল্যাণে মনোযোগ দিন। কারণ জনগণের হৃদয় জয় করা যায় শালীন ভাষা, উত্তম আচরণ এবং কল্যাণমুখী রাজনীতির মাধ্যমে।
আসুন, দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, স্থিতিশীল ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাই। তবেই দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় ক্ষেত্রেই সফলতার পথ সুগম হবে।
— যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সৌদি আরব কেন্দ্রীয় কমিটি




