মতামত

সহিংস রাজনীতি: আমরা কোন পথে হাঁটছি?

আলাল হোসেন রাফি
আলাল হোসেন রাফি
সাংবাদিক · শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ · ৩:৩০ পিএম

 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে মতের ভিন্নতা নতুন কিছু নয়। নতুন দল, পুরোনো দল, আদর্শের দ্বন্দ্ব কিংবা ক্ষমতার প্রতিযোগিতা—এসব গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, রাজনৈতিক মতবিরোধ যখন বারবার সহিংসতা, হামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে রূপ নেয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতন্ত্রের পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের আস্থা।

সম্প্রতি ছাত্রদলের হামলায় এনসিপির কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ঘটনাটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারিক প্রক্রিয়ার। তবে যে বিষয়টি অনস্বীকার্য, তা হলো—রাজনৈতিক মত প্রকাশের জবাব কখনো সহিংসতা হতে পারে না।

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আমরা বহুবার দেখেছি, সংঘাতের রাজনীতি শেষ পর্যন্ত কোনো দল বা গোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী সুফল বয়ে আনেনি। বরং এতে বেড়েছে বিভাজন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের পরিবেশ। সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে।

আজ দেশের তরুণ প্রজন্ম নতুন ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখতে চায়। তারা চায় যুক্তির লড়াই, নীতির প্রতিযোগিতা এবং ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিষ্ঠা হোক। ক্যাম্পাস ও রাজপথ যেন ভিন্নমত দমনের নয়, বরং মত প্রকাশের নিরাপদ স্থান হয়।

যে দলই হোক—ছাত্রদল, এনসিপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠন—সবার জন্য একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। সহিংসতার অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করতে হবে এবং অপরাধী প্রমাণিত হলে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বেরও দায়িত্ব রয়েছে কর্মীদের সংযত রাখা এবং প্রতিহিংসার বদলে সংলাপের পথকে উৎসাহিত করা।

গণতন্ত্রের শক্তি প্রতিপক্ষকে দমন করার মধ্যে নয়; বরং ভিন্নমতকে সহ্য করার মধ্যেই তার সৌন্দর্য। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, কিন্তু তা যেন কখনো শত্রুতায় পরিণত না হয়। কারণ একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশই পারে দেশের উন্নয়ন, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং নাগরিক আস্থা নিশ্চিত করতে।

বাংলাদেশ আজ এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন রাজনৈতিক পরিপক্বতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। সহিংসতার প্রতিটি ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে শুধু নির্বাচন নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইনের শাসন এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। এ মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলেই রাজনীতি হবে মানুষের কল্যাণের, সংঘাতের নয়।

 

লেখক: আলাল হোসেন রাফি
গণমাধ্যম কর্মী

সম্পর্কিত সংবাদ