ইয়াকুব শাহরিয়ার।
শিক্ষক, সাংবাদিক ও সমাজ সেবক।
অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে সময় অসময়ের বাচ-বিচার নেই তাঁর। শৈশব থেকেই তাঁর লেখালেখি শুরু। সাহিত্যের প্রতি দূর্বার আকর্ষণে সময়ের আবর্তে আজ তিনি নিজেও একজন সাহিত্যের কর্ণধার। তাঁর প্রথম কবিতা গ্রন্থ এটি।
নিজে সম্পাদনা করছেন সাহিত্য পত্রিকা “তরু”।
একাধিক দৈনিকে লিখেছেন এবং লিখছেন। চলতি দশকের শুরুতে যে অল্প ক’জন লেখালেখির মহান জগতে আসেন, কবি ইয়াকুব শাহরিয়ার তাঁদের অন্যতম। নিয়মিত ছড়া-কবিতা প্রবন্ধ-নিবন্ধ আর গল্প লিখলেও সাহিত্যের সকল শাখায় রয়েছে তাঁর সমান দখল। ইয়াকুব শাহরিয়ার সুদিনের স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন। ভালোবাসেন পাঠকদেরও স্বপ্ন দেখাতে।
লেখার ভেতর আছে বিদ্রোহ, এদিক-ওদিকে তাকিয়েছেন।পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সবকিছুতে সু-নজর দিয়ে লিখেছিলে;
” সত্যের মত বেদনার বীজ “
একটু সুঁই পরিমাণ আলো-আশা ছাড়েননি কবি। যে বিষয়ে কবিতা লিখেছেন; আমি লক্ষ করেছি, আলো-আধারের পথ দেখিয়েছেন তিনি। যেদিকে তাকান দেখেছেন অন্ধকারের ভেতর অন্ধকার…..! কবিতায় আহবান করেছেন অন্ধকার থেকে আলোর পথের। কবি স্বপ্ন দেখেছেন আলোর।
কবি ধীরে ধীরে হারিয়ে যান অন্ধকার গহীনে…..
জীবনের কঠিন অঙ্কের সহজ হিসেব অঙ্কিত হয়েছে বইটির পাতায় পাতায়। কলমের কালো অক্ষরে তুলে এনেছেন, একাল-সেকালের কথা।
এ প্রজন্মের উত্তরণ ও পরবর্তী প্রজন্মের প্রশ্নের উত্তর রয়েছে, বেশকিছু কবিতার ভাঁজে ভাঁজে। পৃষ্ঠার খাঁজে খাঁজে।
বইটি পড়ে মনের মধ্যে একসময় হাহাকার জেগে উঠবে। এখানেই কবির সার্থকতা। পুরো বইয়ে যে সমাজের ছবি ফুটে ওঠে, সেটা মূলত আমাদের এই সমাজের চারপাশের নিত্য ঘটে যাওয়া ঘটনা।
এই ঘটনাগুলোই কবি তাঁর নিজস্ব কলমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। আমার জানামতে বইটি অনেক পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে।
এ কারণেই বলি কবির স্বার্থকতা। তাঁর শ্রম সার্থক হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস। আমি দেখেছি কবি পরিবার সমাজ এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়েও কাব্যিক ভাষায় কথা বলেছেন। কবি চিন্তা করেছেন আয়নার মতো একটি সমাজ নির্মানের। মানুষ ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন হবে, এমনই স্বপ্ন দেখেন কবি।।




