সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার হাওরপাড়ের কৃষকরা। তবে ধান কাটার ধুম পড়ায় চাষিরা খুশি হলেও ত্রিমুখী সংকটে ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন তারা। কৃষিশ্রমিকের সংকট, জ্বালানি সংকট, গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং আগাম বন্যার আশঙ্কায় কৃষকদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরে মধ্যনগর উপজেলায় ১৩ হাজার ৬২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এরই মধ্যে উপজেলার অন্তত ২৫০ হেক্টর জমির ফসল চৈত্রের বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে। পাকা ধান কাটতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
এদিকে, ভারী বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যা হতে পারে বলে হাওর এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৮ এপ্রিল থেকে সুনামগঞ্জ জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ফলে হাওরের বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই ৮০ শতাংশ পাকা জমির ধান দ্রুত কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে মধ্যনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে। গত এক সপ্তাহ ধরে এ ধরনের আবহাওয়া রাতের বেলায় বেশি দেখা গেছে।
রবিবার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের শালধিঘা হাওরে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধভেজা অবস্থায় ধান কাটছেন পাবেল মিয়া ও মিলন মিয়া নামের স্থানীয় দুই যুবক। তারা দৈনিক এক হাজার টাকা মজুরিতে মহাজনের ধান কাটছেন। ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন তারা। তবে কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বেশিরভাগ জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জমিতে হারভেস্টার মেশিন নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে ধান পাকলেও সময়মতো কাটতে পারছেন না তারা। শ্রমিক সংকট থাকায় কয়েকদিন ধরে পানিতে নেমেই ধান কাটছেন তারা এবং পরে তা একস্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করছেন।
স্থানীয় কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, জমির অধিকাংশ ধান এখনো কাঁচা। এর মধ্যে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছে। হারভেস্টার ব্যবহার করতে পারলে কাজ দ্রুত করা যেত। কিন্তু বাজারে তেল না থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। শ্রমিক সংকটও রয়েছে। বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ফলন ভালো হলেও ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
জানা গেছে, উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ছোট-বড় বেশ কয়েকটি হাওরে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে কিছু জমির ধান কাটা শেষ হলেও জ্যৈষ্ঠের শুরুতে (মে মাসের মাঝামাঝি) পুরোদমে ধান ঘরে তোলা শেষ হয়। তাই ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকরা দ্রুত তা ঘরে তোলার চেষ্টা করেন। তবে মধ্যনগর সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে পাহাড়ি ঢল ও শিলাবৃষ্টির প্রকোপ বেশি থাকে। প্রতিকূল আবহাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সময় ৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কাটা শুরু করা হয়।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সঞ্জয় ঘোষ জানান, ভারী বৃষ্টি ও আগাম বন্যায় প্রায়ই বোরো ধানের ক্ষতি হয়ে থাকে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
https://slotbet.online/